Print Date & Time : 20 May 2026 Wednesday 3:21 pm

এশিয়াজুড়ে সার্কুলার ইকোনমি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করল সাচিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: এশিয়াজুড়ে সার্কুলার ইকোনমিকে (চক্রাকার অর্থনীতি) এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকায় যাত্রা শুরু করল গবেষণা প্রতিষ্ঠান সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইকোনমি নেটওয়ার্ক (সাচিন)। শুক্রবার তেজগাঁওয়ের লিঙ্ক-রোডস্থ করপোরেট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী সাচিনের প্রতিনিধিরা নীতি ও গবেষণা অ্যাডভোকেসি, সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, নীতি-নির্ধারণী অংশীজন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এশিয়াজুড়ে টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া।

তিনি বলেন, “আজ আমরা শুধু একটি সংস্থা সূচনা করছি না; আমরা একটি নতুন চিন্তা, একটি নতুন যাত্রা এবং একটি নতুন দায়িত্ব শুরু করছি।”

সাচিনের মিশন “থিংক সার্কুলার, ইনোভেট রিজিওনালি, ইমপ্যাক্ট গ্লোবালি”, যার মধ্য দিয়ে পরিবেশগত সুরক্ষার এমন এক এশিয়া গড়ে তোলার স্বপ্ন, যেটি সার্কুলার ইকোনমি এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।

সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান খাতগুলোতে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে; যার মধ্যে কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেট, খাদ্যসেবা, প্লাস্টিক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আর্থিক পরিষেবা, পানি ও স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ আরও বিস্তৃত বিষয়গুলোতে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ডাইরেক্টরেট অব সার্কুলার ইকোনমি, বেসরকারি খাত ও পরিবেশ বিষয়ক অ্যাডভোকেসি এন্টারপ্রেনিউর প্রসাদ ওঝা এবং উইমেন টেকনোলজি বাংলাদেশের চেয়ারপারসন প্রিন্স সুপ্রিয়া গোপাল।

সাচিনের নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল বাকী, ভাইস-প্রেসিডেন্ট শিহাবুর রহমান শিহাব, মহাসচিব শাহারিয়ার হোসেন, যুগ্ম সচিব শেখ মো. বিপ্লব হোসাইন, কোষাধ্যক্ষ সুমতি মো. মাহমুদ হাবিব এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আয়েশা আক্তার ও মাহবুবা রহমান সানজিদা উপস্থিত ছিলেন।

এশিয়া যে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করছে সেগুলোর ওপর আলোকপাত করে নীতি অ্যাডভোকেসি বলেন, প্রকৃতি থেকে সম্পদ গ্রহণ, পণ্য তৈরি, ব্যবহার এবং ফেলে দেওয়া – এই অর্থনৈতিক মডেলটি আর টেকসই নয়।

তিনি এখন এক চক্রাকার অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন যেখানে সম্পদ ক্ষয়ের সঙ্গে পুনঃব্যবহার করা হবে, বর্জ্য কমানো হবে এবং উৎপাদনকারীদের সাথে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় থাকবে।

বাংলাদেশের মতো তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশগত টেকসই ও জলবায়ু সহনশীলতা গড়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, “পানি দূষিত হলে মানুষ অসুস্থ হয়। বাতাস দূষিত হলে শিশু ও বৃদ্ধরা কষ্ট পায়। টেকসই উন্নয়ন এখন আর ঐচ্ছিক নয়; এটি অনিবার্য।”

অনুষ্ঠানে সাচিন জানায়, প্রতিষ্ঠানটি চারটি প্রধান ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করবে। সেগুলো হলো গবেষণা ও উন্নয়ন, নীতিগত পরামর্শ ও সহায়তা, নেটওয়ার্কিং ও সহযোগিতা, জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধি।

সংস্থাটি এশিয়ান সাসটেইনেবিলিটি ডেটা অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স হাবে সার্কুলার টেক অ্যান্ড ইনোভেশন মার্কেটপ্লেস, সাচিন একাডেমি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন, সার্কুলার সলিউশনস ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, এশিয়ান সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড ক্লাইমেট সামিটসহ বেশ কিছু ভবিষ্যৎ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, শিল্প প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সাচিন জানিয়েছে, তাদের কাজ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), বিশেষ করে এসডিজি ১২ (দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন), এসডিজি ১৩ (জলবায়ু কার্যক্রম) এবং এসডিজি ১৭ (লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব) এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংস্থাটি এশিয়ার জন্য একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সার্কুলার ভবিষ্যৎ গড়তে সরকার, শিল্প খাত, উন্নয়ন অংশীদার, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, যুবসমাজ ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।