শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রাকৃতিক সম্পদ রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঘোষণা করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তো। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে তৈরি অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর: এএফপি
পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রাবো বলেন, ভবিষ্যতে সব ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদের রপ্তানি (প্রথম ধাপে অপরিশোধিত পাম তেল, কয়লা ও লৌহজাত সংকর ধাতু) সরকার মনোনীত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, এর অর্থ হলো, প্রতিটি রপ্তানি বিক্রির অর্থ সরকার-নির্ধারিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছাবে।
প্রাবো বলেন, এই নতুন নীতিমালার মাধ্যমে রাষ্ট্রের কর রাজস্ব আরও কার্যকরভাবে আদায় করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী প্রতিবেদনও উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, এই বিধিমালা জারি করা আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক রপ্তানি পণ্যের সুশাসন জোরদারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো তদারকি ও নজরদারি শক্তিশালী করা এবং কর কম দেখানো, কম মূল্য দেখিয়ে চালান তৈরি, ট্রান্সফার প্রাইসিং এবং রপ্তানি আয়ের অর্থ বিদেশে পাচারের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।
এদিকে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ইন্দোনেশিয়ার কয়লা রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য মন্দাভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কয়লা রপ্তানি গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি চাহিদার ধরন পরিবর্তন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিতিশীলতাকে এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইন্দোনেশিয়া মোট ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টন কয়লা বিশ্ববাজারে পাঠিয়েছে। রপ্তানির পরিমাণ কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার উচ্চমূল্যের কারণে দেশটি এ খাত থেকে প্রায় ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করতে সক্ষম হয়েছে। শুল্ক বিভাগের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হলেও দেশটির জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের সঙ্গে এর কিছুটা অমিল থাকতে পারে, কারণ মন্ত্রণালয় সরাসরি খনি কোম্পানিগুলোর ডেটার ওপর নির্ভর করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কয়লার ব্যবহার কমানোর পরিবেশগত নীতিমালা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা এই খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়লা রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার এই নিম্নমুখী চিত্র জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদিও রপ্তানি কমার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ সরকারিভাবে জানানো হয়নি, তবে পরিবহন খাতের সমস্যা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উত্তোলনে বিঘ্ন ঘটাকে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার খনি খাতের ব্যবসায়ীরা ও বাজার পর্যবেক্ষকরা গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বছরের বাকি সময়ের পরিস্থিতির ওপর। বিশেষ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই তথ্যের সমন্বয় কীভাবে ঘটে, তা দেখার বিষয়।

Print Date & Time : 21 May 2026 Thursday 7:09 am
কয়লা-পাম তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করবে ইন্দোনেশিয়া
আন্তর্জাতিক,আন্তর্জাতিক ♦ প্রকাশ: