Print Date & Time : 15 May 2026 Friday 3:53 pm

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুরুল আমিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়। শীর্ষ এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে গত ৫ মে (মঙ্গলবার) থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

‘সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরাম’ ও ‘এসডিএফ ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই আন্দোলনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেজিলিয়েন্স, এন্ট্রাপ্রেনিওরশপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট’ (RELI) প্রকল্পের কর্মীরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে প্রায় ১৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া শুক্রবার (৮ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে–

ল্যাপটপ ক্রয়ে জালিয়াতি : RELI প্রকল্পের আওতায় ৩২০০টি গ্রাম সমিতির জন্য নীতিমালা লঙ্ঘন করে নামসর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিগুণ মূল্যে নিম্নমানের ল্যাপটপ কেনা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের তদন্তনাধীন।

কেনাকাটায় অনিয়ম : বন্যা পরবর্তী শাকসবজি বীজ, ঔষধ, সাবান ও মেডিকেল যন্ত্রাংশ ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

সম্পদ ও তহবিল তছরুপ : প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের নামে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় দেখানো এবং অফিসের মূল্যবান আসবাবপত্র নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এমনকি এনডাওমেন্ট ফান্ডের অর্থ বিধি বহির্ভূতভাবে ব্যবহারেরও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।

অবৈধ নিয়োগ : এইচআর পলিসি অনুযায়ী এমডি পদের বয়সসীমা ৬০ বছর হলেও পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে তা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৬২ বছর করা হয়েছে। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই নুরুল আমিনকে এমডি পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বর্তমান প্রশাসনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বব্যাংকের সাথে এসডিএফের দীর্ঘ ২৫ বছরের সুসম্পর্ক এখন হুমকির মুখে। এছাড়া ২০২২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত থাকলেও হঠাৎ প্রকল্প সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ায় শত শত কর্মী বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দক্ষ কর্মীদের অন্যায্য বদলি ও শোকজ করে পদত্যাগে বাধ্য করার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

RELI প্রকল্পের প্রতিনিধিরা জানান, শীর্ষ পর্যায়ের এই দুর্নীতির কারণে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মূল লক্ষ্য আজ ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

বিক্ষোভের ফলে বর্তমানে প্রকল্পের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অর্থ মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তারা প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।