প্রতিনিধি, গাজীপুর : গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের চরদুর্লভখান আঃ হাই সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নূরুল ইসলাম বিএসসির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সায়মন আজ বুধবার কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে ১২ দফা দুর্নীতির বিষয় উত্থাপন করেছেন এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. নূরুল ইসলাম ২০২৪ সালের আগস্টে জেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। এরপর তিনি ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে সরকার নির্ধারিত ফি’র প্রায় দ্বিগুণ অর্থ আদায় করেছেন। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া, উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পূর্ণ বেতন আদায়, প্রশংসাপত্র ও নোট গাইড বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ হাতানো, পুরাতন ও নতুন বই বিক্রি করে অতিরিক্ত ফি নেওয়া, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া, শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন পরিশোধে ব্যর্থতা, এবং কলেজ পর্যায়ের কার্যক্রম ধ্বংসের চেষ্টার মতো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
অধ্যক্ষ নূরুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে সাইমনের আনিতে অভিযোগ গুলো মিথ্যা। তবে, তিনি ৪৮ শিক্ষার্থীকে ২২০০ টাকা করে নিয়ে কোচিং করাচ্ছেন বলে এ কথা স্বীকার করেন। কোচিং বাবদ অতিরিক্ত ফি নেওয়াকে ‘বিদ্যালয়ের মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে শিক্ষা আইন অনুযায়ী সরকারি স্কুলে কোচিং বা বাণিজ্যিকভাবে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না তাসনীম জানান, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি স্কুলে কোচিং বা অতিরিক্ত ফি আদায় আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিক্ষার্থীর স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি এই অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হয়, তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শিক্ষার্থীর ওপর আর্থিক বোঝা বাড়বে।
