নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ও রানওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর মো. হাবিবুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
এদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে হাজির করা হয় তাকে। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুদক সূত্র জানায়, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এ বছরের ২৭ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে প্রভাব বিস্তার, আলামত নষ্ট বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কায় তাকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছে দুদক।
মামলার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেনÑসাবেক সিনিয়র সচিব মুহিবুল হক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক, অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালের মালিক লুৎফুল্লাহ মাজেদ, এমডি মাহবুব আনাম, সাবেক উপসচিব মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রকল্প পরিচালক মো. ইউনুস ভূঁইয়া।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পে মোট প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রচলিত ক্রয়বিধি ও সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন মামলার আসামিরা। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে স্থানীয় এজেন্ট অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকল্প থেকে অন্তত ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
প্রিন্ট করুন



Discussion about this post