ওয়ালিউর রহমান ফরহাদ: বর্তমান ভেজালের ভীড়ে বুঝে উঠাই মুসকিল যে আসলে কোনটি খাব, আর কোনটি খাব না। বাইরে বেরোলেই নানা রকম পসরা সাজানো মুখরোচক খাবারের ছড়াছড়ি।
সাম্প্রতিক ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে’র এক সমীক্ষায় রাস্তার খাবারের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া এক প্লেট চটপটি বা ফুসকাতে প্রায় ৭ কোটির বেশি মলমূত্রজাত জীবানু পাওয়া গেছে। একই রকম জীবানু পাওয়া গেছে খোলা বিক্রি হওয়া সরবতেও। প্রিয় পাঠক, একটু ভাবুন, আমাদের দেশের নিম্নআয়ের বিশেষ করে রিক্সা চালক, ভ্যান চালক, শ্রমজীবি মানুষেরা তীব্র তাপপ্রবাহে অতীষ্ট হয়ে যখন এক গ্লাস সরবত পান করে তখন নিজের অজান্তেই সে কোটি কোটি জীবানুও গ্রহন করে। এর ফলে লিভার, কিডনীর জটিল রোগসহ নানাবিধ পেটের পীঁড়ায় আক্রান্ত হয়।
খাদ্যে এসব জীবানুর সংমিশ্রণ ঘটে সাধারনত খোলা-নোংরা পানি,দূষিত হাত,রাস্তার ধূলিবালি হতে।এসব হতে পরিত্রাণ পেতে আমাদের যতদুর সম্ভব বিশুদ্ধ খাবার পানি পান করা উচিত। মনে রাখতে হবে, যে কোনো খাবার হাতের সংস্পর্শ্বে তৈরীর পূর্বে অবশ্যই দুই হাত কবজি পর্যন্ত ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। রাস্তার বা খোলা জায়গার ধূলিবালি মিশ্রিত খাবার পুরোপুরি বর্জন করা। তাপপ্রবাহের সময় বোতলে বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে রাখা, প্রয়োজনে লেবুও রাখা যেতে পারে যাতে করে প্রয়োজনের মূহুর্তে লেবুর সরবত করে পান করা যায়।
সর্বোপরি প্রাকৃতিক খাদ্যদ্রব্য ও ফলমূল খাবার অভ্যাস করতে হবে। অনেকের ধারণা দামী আপেল-কমলা-আঙ্গুর-বেদানা না খেলে শরীরে শক্তি হয় না। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা, কারণ আমাদের দেশে উৎপাদিত মৌসুমি ফল যেমন-আম,জাম,কাঁঠাল,লিচু,পেঁপে,পেয়ারা,কলা,আমলকি, আনারসসহ আরও অনেক ফল দামে যেমন সস্তা তেমনি প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেলস সমৃদ্ধ। যা নিয়মিত খেলে দিব্যি সুস্থ থাকা যায়।

Print Date & Time : 13 May 2026 Wednesday 8:24 pm