কৃষি যে অর্থনীতির সূচনাশক্তি, উর্বরাভূমি, কৃষি দিয়ে যে অর্থনীতির অভিযাত্রা শুরু হয়—এমন প্রতিচ্ছবি একটি সংবাদে একক চিত্র হয়ে উঠে এসেছে।
দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ‘শক্তিশালী কৃষি উৎপাদনেই সম্প্রসারিত হচ্ছে অর্থনীতি।’ ক্রমবর্ধমান কৃষি উন্নয়নে যে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে, এমন ইঙ্গিত সংবাদে বিশ্লেষিত হয়েছে।
আমরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা থেকে অনেক পিছিয়ে। আধুনিক বিশ্বে কৃষি উপকরণ সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানি, সহজলভ্য কৃষিঋণ—সব ক্ষেত্রেই কৃষিতে সহায়তাকারী নীতিমালা তৈরি করা দরকার। এসব নীতি-সহায়তা পেলে কৃষি আপন গতিতে সম্মুখপানে ধাবিত হবে। কৃষককে যদি কৃষিকে সচল রাখতে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়, কৃষিকে বাঁচানোর লড়াই, তাহলে কৃষিকে কীভাবে বাঁচানো যাবে?
কখনো সার নেই, থাকলে মূল্য চড়া; কীটনাশক নেই, থাকলে ডিলারের করায়ত্তে; বিক্রি করতে গেলে দাম নেই, সে ব্যবস্থাও সিন্ডিকেটের কবলে—তাহলে কৃষি ও কৃষক কীভাবে চলবে?
যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে কৃষিকে সুরক্ষা দেন, তারাই কৃষির নানা ঘাত-প্রতিঘাতে নিপীড়িত হয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে যান; কিন্তু কোনো প্রতিকার মেলে না। শেষমেষ কড়া মূল্য চুকিয়ে রক্ষা পেতে হয়। এই যদি হয় কৃষির অবস্থা, তাহলে কি চলবে?
যে দেশে কৃষককে ফসল ফলানোর জন্য ও সারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে উচ্চ মূল্য দিয়ে সার কিনে অপর্যাপ্ত সার নিয়ে সন্তোষ্টির হাসি হাসতে হয়, সেদেশের কৃষকরা কৃষি উৎপাদনে কী ভূমিকা রাখবে?
দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী। তাদের জীবিকার পথ আবর্তিত হচ্ছে কৃষিকে ঘিরে। আর কৃষিকর্মের মাধ্যমে দেশের অন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনজীবিকার পথ উন্মুক্ত রয়েছে।
এ দেশের কৃষি শুধু অন্য পেশার সব মানুষের অন্নসংস্থানের বিষয় নয়, কর্মসংস্থানেরও বিষয়। অনেক পেশার কর্মধারা যুক্ত রয়েছে কৃষি পেশার মানুষের সঙ্গে। তারা কৃষিজাত নানা পণ্য প্রক্রিয়া করে অর্থ উপার্জন করে এবং নিজেদের চাহিদা নিবারণ করে দেশের মানুষের সেবায় সরবরাহ করে। আর বহির্বিশ্বের চাহিদামতো প্রতিযোগিতার নানা পথ পেরিয়ে বিশ্ববাজারে রপ্তানি পণ্য হয়ে সগর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে।
বর্তমান বিশ্বে শিল্পোন্নত দেশ জাপান। শুধু শিল্পোন্নত বললে সঠিক বলা হবে না, শিল্পের যতগুলো শাখা-উপশাখা আছে, সেসব শাখা-উপশাখার উন্নত শিল্প-নির্মাণ পদ্ধতি এবং উন্নত মেশিনারিজ জাপান তৈরি করে সারা বিশ্বে অন্য সব শিল্প উন্নত দেশকে সরবরাহ করে। অর্থাৎ জাপান আজও শিল্পে সেরাদের সেরা।
অথচ এই জাপানই একসময় তাদের শিল্পযাত্রা কৃষি দিয়ে আরম্ভ করেছিল। তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও গবেষণা শুধু শিল্পকে নয়, সারা দুনিয়ার মানুষকে এনে দিয়েছে আকাশছোঁয়া চিন্তার উৎকর্ষ।
ভারী, হালকা, মাঝারি—সব শিল্পের মানসম্পন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির সূতিকাগার হচ্ছে জাপান। শিল্পের যন্ত্রাংশ তৈরিতে যদি কোনো নেতৃস্থানীয় দেশ থেকে থাকে, তাহলে সর্বাগ্রে জাপানের নাম চলে আসবে। একদা কৃষি দিয়ে যাত্রা শুরু করা জাপান এখন সবার শিখরে আরোহণ করেছে।
আমরা মনে করি, কৃষির জন্য থাকতে হবে সুশৃঙ্খল নীতিমালা, যার আলোকে চলবে কৃষি, যার ওপর থাকবে কৃষককের নির্ভরতা। তাহলেই কৃষি দিয়ে শিল্পযাত্রা সম্ভব, নচেৎ আশার আলোর মাঝে থেকে যাবে কৃষি, আর কৃষক থেকে যাবে অপেক্ষার প্রহর গুনে।
প্রিন্ট করুন





Discussion about this post