নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের চলমান বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিসহায়তা জোরদার এবং বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বিজিএমইএ’র একটি প্রতিনিধিদল এসব দাবি তুলে ধরে।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান। এ সময় সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবিরসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তপাদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা বিআরপিডি সার্কুলারের আওতায় নীতিসহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে খেলাপি হিসাব নির্ধারণের সময়সীমা নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে তারা সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। তাদের মতে, এতে আরও বেশি সংখ্যক রুগ্ন ও সমস্যাগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনর্বাসনের সুযোগ পাবে এবং ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত নীতিসহায়তা বাস্তবায়নে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিজিএমইএ নেতারা। তারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো যথাসময়ে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদান জরুরি।
বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান। তাদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সময় বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে বাস্তবভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
বিজিএমইএ’র উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ। তিনি বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
