Print Date & Time : 17 April 2026 Friday 12:27 pm

কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ে শঙ্কা টিআইবির

নিজস্ব প্রতিবেদক : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নরকে ঘিরে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও প্রভাবমুক্তভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলছে, করপোরেট স্বার্থ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি কতটা স্বাধীনভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নবনিযুক্ত গভর্নরের ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রস্ত থেকে ঋণখেলাপি হওয়া এবং পরে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্প, আবাসন খাত, অ্যাটাব ও ঢাকা চেম্বারের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী লবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

টিআইবির প্রশ্ন, কর্তৃত্ববাদী আমলে সংকটে পড়া ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধারে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ পাওয়া একজন ব্যবসায়ী গভর্নর ঋণখেলাপি ও ব্যবসায়ী লবির প্রভাবমুক্ত থেকে কতটা নির্মোহভাবে কাজ করতে পারবেন? বিশেষ করে যেখানে সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬০ শতাংশ ও মন্ত্রিপরিষদের ৬২ শতাংশের মূল পেশা ব্যবসা এবং প্রায় ৫০ শতাংশ সংসদ সদস্য নিজেই ঋণগ্রস্ত সে প্রেক্ষাপটে এ নিয়োগ ব্যাংক খাতের জন্য কতটা

ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা সরকারকে ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর পদে নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহলের করায়ত্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সদ্য ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া কতটা বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

টিআইবি মনে করে, ব্যাংক খাতের সুশাসন, শৃঙ্খলা, তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে এ ধরনের নিয়োগ সাংঘর্ষিক। অতীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দলীয় বিবেচনা ও স্বার্থান্বেষী মহলসহায়ক কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর অবস্থা, খেলাপি ঋণের বিস্তার ও অর্থ পাচারের ঘটনা দেশের অর্থনীতিকে নাজুক অবস্থায় নিয়ে গেছেÑএ বাস্তবতা বর্তমান সরকারের অজানা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংস্থাটি আরও বলেছে, চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সার্বিক ব্যাংকিং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নতুন গভর্নর কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেনÑতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের যে জনআকাক্সক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশাও রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে নতুন গভর্নরের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকার ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী স্বার্থের বাইরে থেকে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।