Print Date & Time : 30 April 2026 Thursday 6:17 pm

ক্লাউড ব্লাস্ট মোকাবিলায় প্রযুক্তির গুরুত্ব

মো. জাহিদুল ইসলাম : মেঘ বিস্ফোরণ মূলত এক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর বিস্তৃতি বা প্রভাব ব্যাপক। এটি বজ্রপাতের মতোই এক ধরনের প্রাকৃতিক ঘটনা। বর্তমানে বোমা বিস্ফোরণের মতোই এক আতঙ্কের নাম মেঘ বিস্ফোরণ। সম্প্রতি প্রাকৃতিক এই দুর্যোগটি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাধারণত বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে গেলে তা ওপরে ওঠে এবং জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়ে ঘনীভূত হয়। একপর্যায়ে মেঘের কুণ্ডলী বায়ুর চেয়ে ভারী হয়ে তীব্র শক্তি নিয়ে নিচে নেমে আসে। আর তখনই সেই সময় ঘটে মেঘ বিস্ফোরণ। এর প্রভাবে খুব অল্প সময়ে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়। সাধারণভাবে মেঘ বিস্ফোরিত হলো বৃষ্টির বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণের কারণ হলো অল্প সময়ের মধ্যে মেঘ ভেঙে আকাশ থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে বৃষ্টি ঝরে পড়ে। পুরো প্রক্রিয়া মাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই ঘটে যায়। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই বৃষ্টি নামতে পারে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে। এই গতি সাধারণ বৃষ্টির তুলনায় অনেক গুণ তীব্র। এর ফলে হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি হয়। এটি ঘটে সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে। এর রেশ বা আভাস বুঝতে পারার আগেই প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় সময়ের সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়তেই থাকে। ঘনঘন মেঘ বিস্ফোরণের মূল কারণ হলো মূলত জলবায়ু পরিবর্তন। এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু মানুষের জীবন নয়, বরং অবকাঠামোগত ক্ষতির দিক থেকেও মারাত্মক হুমকি। জলবায়ু পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মেঘ বিস্ফোরণের ঘটনা আরও ঘনঘন ঘটতে থাকবে। মেঘ বিস্ফোরণ প্রতিরোধে গাছের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে বন উজাড় হওয়ায় এবং গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে অনেক বেশি। মেঘ বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর সাধারণত অতিবৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দিতে পারে। তবে কোন এলাকায় এত অল্প সময়ের ঘটনার জন্য আলাদা সতর্কবার্তা দেওয়া এখনও প্রযুক্তিগতভাবে বেশ কঠিন। পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে সাধারণত স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টিপাত অনুমান করা হয়। তবে হঠাৎ এ ধরনের ভারী বর্ষণের সঠিক পূর্বাভাস দেয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। যেহেতু মেঘ বিস্ফোরণ একটি আকস্মিক ও তীব্র বৃষ্টিপাতের ঘটনা, তাই এই দুর্যোগ থেকে বাঁচতে হলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া এবং দুর্যোগের সময় সঠিক পদক্ষেপ নেয়া দরকার। মেঘ বিস্ফোরণের পূর্বাভাস পেলে উঁচু এবং নিরাপদ স্থানে যাওয়া উত্তম। ভবনের ভেতরে থাকলে নিচতলা বা বেসমেন্ট এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। মেঘ বিস্ফোরণের সময় বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকে। তাই ধাতব বস্তু ও বিদ্যুতের সংযোগ থেকে দূরে থাকতে হবে। যেহেতু মেঘ বিস্ফোরণ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাই পূর্বাভাস দেয়া কঠিন। তাই সঠিক প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করে এই দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপযুক্ত ব্যবহার বলতে দুর্যোগ-পূর্ববর্তী প্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার—এই তিনটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করাকে বোঝায়। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি দুর্যোগের পূর্বাভাস, প্রস্তুতি, সাড়াদান ও পুনরুদ্ধারের কাজে সহায়তা করে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উপগ্রহ চিত্রাবলি, জিআইএস এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকরভাবে ব্যবহূত হচ্ছে। যেকোনো প্রাকৃতিক বা মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় তথ্যের আদান-প্রদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় তথ্যই বড় শক্তি। তবে সেটি হতে হবে সঠিক, সময়মতো ও সমন্বিত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে থাকে।

নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল)

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা