খালেদা জিয়া শুধু একটি নাম নয়, খালেদা জিয়া একটি দেশের আত্মপরিচয়, রাজনৈতিক নির্যাতনের গল্পগাথা, প্রতিহিসার পেছনের লুক্কায়িত ইতিহাস। তার এই অন্তিমযাত্রা লাখো প্রাণের ক্রন্দনধ্বনি। গ্রামবাংলার আনাচকানাচে হাজারো বাঙালির হƒদয়ে থেমে থেমে জেগে ওঠা বেদনার ঢেউ, দূরে বাজানো বিরোহী বাদকের বাঁশির করুণ সুর।
খালেদা জিয়ার চিরবিদায় বাকরুদ্ধ জাতির অব্যক্ত বেদনা। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান কতিপয় দেশবিরোধী দুর্বৃত্তের হাতে প্রাণ হারানোর পর তিনি দেশের শাসনভার কাঁধে তুলে নেন জাতির ক্লান্তিলগ্নে। সেই ক্লান্তিকালে নানা ষড়যন্ত্রের মাঝে জাতিকে বারবার পথ হারাতে হয়। দেশি-বিদেশি চক্রান্তের নানা পথপরিক্রমা পেরিয়ে দেশ আজ নতুন বাঁকে। ঠিক সেই সময় চিরবিদায় নিলেন মহান দেশনেত্রী খালেদা জিয়া।
দেশের মানুষের কাছে এবং দলের সমর্থকদের কাছে খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি নন, তিনি হাল না ছাড়ার প্রতীক। যেকোনো চাপের মুখে মাথা নত না করে নিজস্ব অবস্থানে অটল থাকা এবং দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে দলের নেতৃত্ব দেওয়াই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। ’৯০-এর স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য কারাবরণ করেও তিনি ক্ষমতার সঙ্গে সমঝোতা করেননি। জনগণ ও দেশের স্বার্থে তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। এসবই তাকে আপসহীন নেত্রীতে পরিণত করেছে।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে দলের নেতৃত্ব গভীর সংকটের পরে। এমন অবস্থায় ১৯৮২ সালে বেগম খালেদা জিয়া দলের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরপর ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। এর আগে ১৯৮২ সালের ৮ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি শোষণহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও আত্মনির্ভরশীল দেশ গঠনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেছিলেন। বিগত কিছুকাল ধরে আমি বিএনপির কার্যক্রম গভীরভাবে লক্ষ করেছি। দলের ঐক্য ও সংহতি বিপন্ন হতে পারে বলে মনে করে আমাকে দলের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তাই দলের বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছি। দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং শহীদ জিয়ার গড়া দলে ঐক্য ও সংহতির জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়াই আমার লক্ষ্য।’
সেই দৃঢ়চিত্তের অধিকারী গণমানুষের নেত্রী চলে গেলে পরপারে, না ফেরার দেশে। আজ সংসদ ভবনের সামনে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে তার নামাজে জানাজা। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্র তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। আমরাও বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি মহান আল্লাহর দরবারে।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post