Print Date & Time : 14 January 2026 Wednesday 1:08 am

খুনিদের গ্রেপ্তারে কঠোর কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্যসচিব আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজিজুরের জানাজার আগে দলটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াসীন আলী ও সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম এই ঘোষণা দেন।

গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার তেজতুরী বাজার এলাকায় (বসুন্ধরা শপিং মলের পেছনে) সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন মুছাব্বির।

এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আগামীকাল শনিবার ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। তারা বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে স্বেচ্ছাসেবক দল কঠোর কর্মসূচি দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।

গত বুধবার রাত মুছাব্বিরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পাশের একটি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল আজিজুর রহমানের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বাদ জোহর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজিজুর রহমানের মরদেহ আনা হয়। সেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক মীর সরাফত আলী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, এসএম জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াসীন আলীসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান বলেন, অনতিবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত, তারা যারাই হোক তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে হাবিব উন নবী খান বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীরা ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। আমরা আশা করব, এই সময়ের মধ্যেই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে। তা না হলে ধরে নেব আপনাদের আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি আছে, অথবা আপনারা পারবেন না। তাই সরকারকে বলব, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, একটি মহল নির্বাচন বানচাল করার জন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করছে। মুছাব্বির একজন সাহসী সৈনিক ছিলেন। শত শত মামলা, নিপীড়ন সহ্য করেছেন, কিন্তু রাজপথ ছাড়েননি। আমরা মনে করি, মুছাব্বিরের হত্যাকাণ্ড নির্বাচন বানচালকারীদের চক্রান্তের অংশ। উদ্দেশ্য একটাই-দেশকে অস্থিতিশীল করা। আমাদের অবশ্যই এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

গতকাল শোক জানিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে, যার নির্মম বহিঃপ্রকাশ এ হত্যাকাণ্ড। এ ধরনের সহিংসতা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চরমভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।