Print Date & Time : 14 January 2026 Wednesday 5:08 am

গণভোটের প্রচারণায় এনজিওকে কাজে লাগাবে ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ একই দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণভোট। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় ব্যানার টানাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী এনজিওগুলোকে কাজে লাগানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনা, মাইক্রো ও ডিজিটাল ন্যানো ঋণে সতর্কতা অবলম্বন, স্কুল ব্যাংকিং জোরদার, রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবণতা, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও অফিস অনুমোদন সহজীকরণ, ফরেন এক্সচেঞ্জ আইন সংস্কার এবং সুদের হার পরিস্থিতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চার ডেপুটি গভর্নর ও বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাংকগুলোর প্রতিটি শাখায় দুটি করে ব্যানার টানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে মানুষ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি এনজিওগুলো যদি জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে, সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম  (সিএসআর) তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৈঠক সূত্র জানা যায়, ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার কমে ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাদ দিলে একই সময়ে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়াবে ২৪ দশমিক ৫৩ শতাংশে।

সভায় মাইক্রো লোন ও ডিজিটাল ন্যানো লোন কার্যক্রম নতুন করে ঢেলে সাজাতে কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ঋণ যেন কোনোভাবেই খারাপ গ্রাহকের হাতে না পড়ে এবং ভবিষ্যতে খেলাপির ঝুঁকি তৈরি না হয়, সেজন্য শুরু থেকেই সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকার্স সভায় স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপককে প্রতি বছর কমপক্ষে দুটি করে স্কুল পরিদর্শন বাধ্যতামূলকভাবে করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। সামনে রমজান ও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক গতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে, বিশেষ করে বৈদেশিক বাণিজ্যে জোর দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় বলা হয়, কেউ যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে চান, সে ক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর কাজ চলছে। একই সঙ্গে কেউ যদি দেশের বাইরে অফিস খুলতে চান, সেক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে।

সুদের হার প্রসঙ্গে সভায় জানানো হয়, মূল্যস্ফীতি এখনো কাক্সিক্ষত মাত্রায় না কমায় এ মুহূর্তে সুদের হার কমানোর সুযোগ নেই। তবে কীভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।

ব্যাংকার্স সভার আলোচ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরিফিন বলেন, ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার কমে ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশে নেমেছে, আর একীভূত পাঁচ ব্যাংক বাদ দিলে তা ২৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তিনি জানান, মাইক্রো ও ডিজিটাল ন্যানো ঋণে সতর্কতা বাড়াতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণভোটে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাংক শাখাগুলোয় ব্যানার টানানো হবে এবং স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

মাসরুর আরিফিন জানান, রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা রয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং বিনিয়োগ ও অফিস খোলার অনুমোদন সহজ করা হবে। মূল্যস্ফীতি না কমায় এ মুহূর্তে সুদের হার কমানোর সুযোগ নেই, তবে বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।