শেয়ার বিজ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান প্রকাশ্যে বড় পরিসরে বড়দিন উদ্যাপন করছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছর ধরে দখলদার ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণে গাজায় বড়দিনের সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ ছিল। আর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বড়দিনের অনুষ্ঠানগুলো হয় সীমিত পরিসরে বা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছিল।
যিশুখ্রিষ্টের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত বেথলেহেমে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে উৎসবে অংশ নেন। তারা সান্তা ক্লজের পোশাক পরে এবং গান-বাজনা বাজিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পুরো শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
অবরুদ্ধ গাজায় ফিলিস্তিনিরা বড়দিন উদ্যাপনের জন্য জড়ো হন চার্চ অব দ্য হলি ফ্যামিলিতে। ইসরায়েলি হামলায় এই গির্জাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে এটি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহূত হচ্ছে। সেখানেই সীমিত পরিসরে বড়দিন উদ্যাপন করেন তারা।
এদিকে বড়দিন উদ্যাপনে সাজসাজ রব মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ, এশিয়া থেকে আমেরিকায় সবখানেই। গাজা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় এবার যিশুর জন্মনগরী বেথেলহাম ফিরে পেয়েছে বড়দিনের হারানো আমেজ। নগরীটিতে অনুষ্ঠিত ক্রিস্টমাস ইভের বিশেষ প্রার্থনায় যোগ দেন ফিলিস্তিন ছাড়াও অন্য দেশের পর্যটকরাও। ক্রিস্টমাস ইভের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে ইতালি, ফ্রান্স, ইরাক, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে।
ক্যালেন্ডারের পাতায় ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ মানেই বাহারি ত্রিসমাস ট্রি, নিয়ন আলোর ঝলকানি, সান্তা ক্লজের উপহার আর মজার মজার কেকের সমাহার। মহিমান্বিত এ দিনটিতে বেথেলহাম নগরীতে জন্ম নিয়েছিলেন খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট। তার আগমনকে স্মরণ করে বিশেষ এ দিনটি নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালন করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা।
এবারে বড়দিনের উৎসবটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় যিশুর জন্মনগরী বেলেথহামবাসীর কাছে। কেননা প্রায় দুই বছরের ইসরায়েলি আগ্রাসনে ক্রিসমাসের আনন্দ উপভোগ করতে পারেননি নগরীটির বাসিন্দারা। আগমন ঘটেনি কোনো বিদেশি পর্যটকের। তবে এবার গাজা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় পশ্চিম তীরের এ পবিত্র নগরীটির মানুষের মুখে ফুটেছে হাসি। জ্বলেছে আলোর রোশনাই। স্থানীয় সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের মিশেলে ক্রিসমাসের আগের রাতে বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেয় শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই।
বিশেষ প্রার্থনায় যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনা থেকে বেথেলহামে এসেছি। স্থানটি এখন নিরাপদ। বিশ্ববাসীকে পবিত্র স্থানটিতে আসতে আহ্বান জানাচ্ছি।’ অন্য একজন বলেন, ‘গত বছর আমরা ভয় আর আতঙ্কে দিনটি উদ্যাপন করেছি। তবে এবার খুশির আমেজ বিরাজ করছে নগরীজুড়ে।’
এছাড়া বড়দিনের সাজে সেজেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, সুইজারল্যান্ড থেকে শুরু করে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনেও। খ্রিষ্টমাস ইভের বিশেষ প্রার্থনায় ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে জড়ো হওয়া ভক্তদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান রোমান ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ। এ সময় তিনি যুদ্ধ-বিদ্বেষ ভুলে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সবার প্রতি আহ্বান জানান।
রোমান ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ বলেন, ‘আশা করি ঈশ্বর এবছর আমাদের আরও বেশি জ্ঞান, বিবেক-বুদ্ধি, শান্তি ও ভালোবাসা দেবেন। মানুষ একে অপরের মাঝে ভালোবাসা বিলিয়ে দেবে। এখন এটির বড়ই অভাব।’
