শেয়ার বিজ ডেস্ক : ২০২৫ সালে গাজা উপত্যকায় শিশুর অপুষ্টি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৫ হাজার শিশুর অপুষ্টির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘ। শীতকালীন আবহাওয়া মানবিক সহায়তায় যে সামান্য অগ্রগতি হয়েছিল, তা ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেছেন, মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) এর তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ভয়াবহ। কঠোর আবহাওয়া পরিস্থিতি মানবিক সহায়তার অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
দুজারিক আরও জানিয়েছেন, পুষ্টি খাতে কাজ করা জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে বিপুলসংখ্যক শিশুকে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে শনাক্ত করছে। গত মাসে আমাদের অংশীদাররা ৭৬ হাজারের বেশি শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৯০০টি তীব্র অপুষ্টির ঘটনা শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ৮২০টিরও বেশি ছিল গুরুতর তীব্র অপুষ্টির ঘটনা। তিনি আরও যোগ করেছেন, এর ফলে ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া তীব্র অপুষ্টির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫ হাজারে।
দুজারিক আরও বলেছেন, জাতিসংঘের অংশীদাররা ২৮ হাজার পরিবারের মধ্যে তাঁবু, ত্রিপল ও কম্বলসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৃষ্টিঝড় অব্যাহত থাকায় এখনো ১১ লাখ মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন, কারণ অনেক আশ্রয়স্থল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁবু কেবল সাময়িক সমাধান। জরুরি অবস্থা থেকে প্রাথমিক পুনরুদ্ধারের দিকে যেতে হলে আরও সরঞ্জাম প্রয়োজন। যেমন, টুলকিট, সিমেন্ট, ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজন টেকসই অর্থায়ন।
কঠোর আবহাওয়ার প্রভাব শিশুদের ওপর কতটা ভয়াবহ, সে বিষয়ে আলোকপাত করে দুজারিক বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এবং বছরের শেষ পর্যন্ত আমাদের অংশীদাররা শীতকালীন সহায়তার অংশ হিসেবে ৩ লাখ ১০ হাজারের বেশি শিশুকে শীতের পোশাক এবং ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি জোড়া জুতা বিতরণ করতে পেরেছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বন্ধুসুলভ পরিবেশ তৈরিতে গাজাজুড়ে ১৫০টি বিশেষায়িত তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে।
শিক্ষা খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে দুজারিক বলেছেন, জাতিসংঘের শিক্ষা অংশীদাররা ৩৫ হাজার গাজাবাসী শিক্ষার্থীর জন্য আরও ১৮টি অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছে। এ নিয়ে বর্তমানে চালু অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪০টি, যেখানে প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার শিশু পড়াশোনা করছে।
গাজায় ইসরাইলের চলমান ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে দুজারিক বলেছেন, আমরা চাই গাজায় যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তার ধ্বংস বন্ধ হোক। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দ্বিতীয় ধাপে এগিয়ে যাক, যাতে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার আওতায় ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ওই হামলায় এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ।
