গাজীপুর প্রতিনিধি : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসকে কেন্দ্র করে গাজীপুর মহানগরে রাজনৈতিক সক্রিয়তার নতুন মাত্রা যোগ করেছে মহানগর বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা দলটির সাংগঠনিক শক্তি, আদর্শিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের স্পষ্ট বার্তা বহন করেছে।
আজ রোববার দুপুরে নগরীর বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি।
সভায় বক্তারা স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নে দলীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।
বিশেষভাবে বক্তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপিকে সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা মীর হালিমুজ্জামান ননী, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, হান্নান মিয়া হান্নু, সুরুজ আহম্মেদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা এস কে জবিউল্লাহ, গাজীপুর মহানগর জিয়া পরিষদের সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম মোল্লাসহ আরও অনেকে। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বিশ্লেষকদের মতে- এই আয়োজনকে শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি ছিল— দলীয় শক্তি প্রদর্শনের একটি মঞ্চ, নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের বার্তা প্রদান এবং আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচির ইঙ্গিত।
স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপি একদিকে যেমন ঐতিহাসিক চেতনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা তুলে ধরেছে, অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করার প্রচেষ্টাও স্পষ্ট করেছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সভা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণে-দলীয় ঐক্য সুসংহত করা, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করা, ভবিষ্যৎ আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির ভিত্তি তৈরি করা। সব মিলিয়ে, গাজীপুরে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভা বিএনপির জন্য একটি কৌশলগত ও প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশলের ইঙ্গিত বহন করে।
