গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে ঘিরে পরিকল্পিত হেনস্তা, ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর রাজবাড়ী রোডে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নেন। গাজীপুরের সাংবাদিক সমাজ, গাজীপুর সদর প্রেসক্লাব এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, একজন পেশাদার সাংবাদিককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করে তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়-পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর আঘাত।
বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ সকালে এক বোরকা পরিহিত নারী কৌশলে আসাদুজ্জামানকে কথা বলার জন্য ডেকে নিয়ে অতর্কিতভাবে হেনস্তা করেন। ঠিক সেই সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে হান্নান মোল্লা ও লতিফ সরকার টুটুলের নাম উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়। সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের দাবি, ২০২৪ সাল থেকেই একটি চক্র তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা চালিয়ে আসছে এবং এ বিষয়ে তিনি থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এছাড়া অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে মহানগর হাকিম আদালতে দুই কোটি টাকার মানহানি মামলা (সিআর নং-৫৭২/২০২৪) বিচারাধীন রয়েছে, যার চাপ এড়াতেই ‘নারী কেলেঙ্কারি’ সাজিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া একটি বৈষম্যবিরোধী মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাংবাদিক নেতারা বলেন, পরিকল্পিতভাবে একজন সাংবাদিককে হেয় প্রতিপন্ন করার এই ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এর মাধ্যমে পুরো সাংবাদিক সমাজকে ভীত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একইসঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তারা সতর্ক করেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করা না গেলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মানববন্ধন থেকে প্রধান দাবি হিসেবে উঠে আসে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। গাজীপুরের এ ঘটনা শুধুমাত্র একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সম্মানহানির অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং পেশাগত স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে, ফলে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন এখন সময়ের দাবি-এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
