Print Date & Time : 29 April 2026 Wednesday 5:56 am

চট্টগ্রামে ‘গার্মেন্টস ভিলেজ’ গড়তে জমি চায় বিজিএমইএ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: একসময় চট্টগ্রামে সাতশোর বেশি গার্মেন্টস কারখানা ছিল। এখন সে সংখ্যা তিনশোতে নেমে এসেছে। সেই ক্ষয় ঠেকাতে এবং দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক শিল্প (এসএমই) খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবার মাঠে নেমেছে তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে কমপ্লায়েন্সভিত্তিক ‘গার্মেন্টস ভিলেজ’ বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন স্থাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের নিকট দুই থেকে তিন একর করে জমি বরাদ্দের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, এমডি, এম, মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাইফ উল্যাহ মানসুর ও এনামুল আজিজ চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা।
বিজিএমইর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, নন-কমপ্লায়েন্স ইস্যু-বিশেষ করে ফায়ার সেফটি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও শ্রমিক কল্যাণ সংক্রান্ত শর্ত পূরণে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। একটি পরিকল্পিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক জোন প্রতিষ্ঠা করা গেলে এসব প্রতিষ্ঠান একত্রে আধুনিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে, যা তাদের টিকে থাকা ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, একসময় চট্টগ্রামে প্রায় ৭০০টি গার্মেন্টস কারখানা থাকলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৩০০-এ নেমে এসেছে। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও এ অঞ্চলে পোশাক শিল্পের অংশগ্রহণ হ্রাস পাওয়া উদ্বেগজনক। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে দুই থেকে তিন একর করে জমি বরাদ্দ দিয়ে বিজিএমইএ, ব্যাংক, বন্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্স জোন গড়ে তোলা গেলে দেশীয় উদ্যোক্তারা আরও শক্তভাবে এগিয়ে যেতে পারবে। এই উদ্যোগ আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত অবকাঠামোর সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
বিজিএমইর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা আলাদাভাবে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে আর্থিকভাবে সক্ষম নন। একটি যৌথ কমপ্লায়েন্স জোন গড়ে তোলা গেলে তারা কম খরচে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে পারবেন এবং একই জোনে একাধিক কারখানা পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হবে। এতে অটোমেশনসহ আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ আরও এগিয়ে থাকবে।
পরিচালক সাইফ উল্যাহ মানসুর বলেন, এ উদ্যোগটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে এটি একটি সফল মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে, যা নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিল্পের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে তৈরি পোশাক খাতে আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একটি পরিকল্পিত ‘গার্মেন্টস ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠা এ ক্ষেত্রে কার্যকর ও টেকসই সমাধান হতে পারে।
পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান ও বন্দরের নিকটতা শিল্পের জন্য একটি বড় সুবিধা। সঠিক পরিকল্পনায় এই সুযোগ কাজে লাগানো গেলে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব।
চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম মিঞা প্রস্তাবটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এবং এ খাতকে টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পরিকল্পিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠা অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা, আধুনিক অবকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। বিষয়টি অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বিজিএমইর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষায়িত টিম গঠন করা হবে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ, এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে একটি নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিল্প পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যা শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে সহায়ক হবে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ মানিউল হাসান ও তামজিদুর রহমানসহ বিজিএমইএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।