Print Date & Time : 29 August 2025 Friday 6:28 pm

চাদে শরণার্থী শিবিরে কলেরায় ৬৮ জনের মৃত্যু

 শেয়ার বিজ ডেস্ক : মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে সুদানের শরণার্থীদের শিবিরে জুলাইয়ের শেষের দিকে কলেরা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার এএফপিকে এ তথ্য জানায়।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে এনজামেনা থেকে এএফপি এ খবর জানায়। এই শরণার্থীদের অনেকেই এমন শিবিরে আটকা পড়ে আছেন যেখানে নিরাপদ পানীয় জল এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিতান্তই অপ্রতুল। জাতিসংঘ সোমবার পানিবাহিত রোগটির দ্রুত বিস্তারের জন্য এই ঘাটতিকে দায়ী করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ পরিচালক তাদজাদিন মাহামাত আল্লামামিন বলেন, ‘ডগুই শরণার্থী শিবিরে প্রথম কলেরা রোগী রেকর্ড হওয়ার পর থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৮ জন মারা গেছেন।’

কলেরা হলো একটি তীব্র অন্ত্রের সংক্রমণ যা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত খাবার এবং পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি তীব্র ডায়রিয়া, বমি এবং পেশিতে টান সৃষ্টি করে।

কলেরা চিকিৎসা না করা হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রোগী মারা যেতে পারে, যদিও সাধারণ খাবার স্যালাইন বা আরও গুরুতর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এর চিকিৎসা করা যেতে পারে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের মতে, ২০২৩ সাল থেকে সুদান কলেরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ, এই বছর এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী এবং প্যারামিলিটারি র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে শুরু হওয়া মারাত্মক গৃহযুদ্ধের পর থেকে পালিয়ে আসা ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সুদানি শরণার্থীর আবাসস্থল চাদ।

উল্লেখ্য, সুদানের শরণার্থী শিবিরে কলেরার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি মুহূর্ত মানুষ আতঙ্কে পার করছেন। দারফুরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে কলেরা ছড়িয়ে পড়েছে। ওই শরণার্থী শিবিরগুলোতে কয়েক হাজার মানুষের কাছে জীবাণুুনাশক ও ওষুধ বলতে শুধু ফুটন্ত পানি ছাড়া কিছু নেই। তাওয়িলা শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী মোনা ইব্রাহীম বলেছেন, আমরা পানিতে লেবু মিশিয়ে তা ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করি। আমাদের কাছে আর কোনো উপায় নেই। আরএসএফের আক্রমণে এপ্রিলে এল-ফাশের ও জমজম শরণার্থী শিবির থেকে প্রায় ৫ লাখ মানুষ তাওয়িলাতে আশ্রয় নিয়েছেন। ২০২৩ সাল থেকে সুদানের আর্মির সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত আছে আরএসএফ।