শেয়ার বিজ ডেস্ক : মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দেশটির স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বার্ষিক সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে ছয় হাজারের বেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। খবর: বার্তা সংস্থা এএফপি।
গতকাল রোববার জান্তার জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইউনিয়ন অব দ্য রিপাবলিক অব মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেশের বিভিন্ন কারাগার, আটক কেন্দ্র ও ক্যাম্পে দণ্ডভোগরত ৬ হাজার ১৩৪ পুরুষ ও নারী বন্দিকে ক্ষমা প্রদান করেছেন।’
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরই এ ধরনের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়ে থাকে।
এদিকে মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপের প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে সেনাবাহিনী-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বিতর্কিত এই নির্বাচনের প্রথম ধাপে দলটি বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশন (ইউইসি) প্রকাশিত ৫৬টি আসনের আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের নেতৃত্বাধীন ইউএসডিপি নিম্নকক্ষ পিথু হুত্তাওয়ের ৪০টির মধ্যে ৩৮টি আসনে জয় পেয়েছে। শান ন্যাশনালিটিজ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (হোয়াইট টাইগার পার্টি) এবং মন ইউনিটি পার্টি (এমইউপি) পেয়েছে একটি করে আসন।
এ ছাড়া রাজ্য ও আঞ্চলিক পরিষদের (স্টেট/রিজিওনাল) ১৫টি আসনের মধ্যে ইউএসডিপি জয় পেয়েছে ১৪টিতে। একটি আসনে জয়ী হয়েছে আখা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট পার্টি। উচ্চকক্ষ অ্যামিওথা হুত্তাওয়েতে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে, যা জিতেছে ওয়া ন্যাশনাল পার্টি।
ক্ষমতা দখলের পর গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন দমনে কঠোর অভিযানে দেশজুড়ে সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা করে সামরিক জান্তা। জান্তা সরকার দাবি করেছে, তিন ধাপে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।
জান্তা সরকার জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫২ শতাংশ। তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ২০২০ ও ২০১৫ সালের নির্বাচনের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নির্বাচনের সমালোচনা করেছে। কারণ জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি এবং ভোট নিয়ে সমালোচনা আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আগামী ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি আরও দুই ধাপে ভোটগ্রহণ হবে, যা মিয়ানমারের ৩৩০টির মধ্যে ২৬৫টি টাউনশিপে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে এর অনেকগুলোতেই জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post