Print Date & Time : 3 May 2026 Sunday 7:09 pm

জাপানের শ্রমবাজার ধরে রাখার উদ্যোগ নিন

জাপান আমাদের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। দেশটিতে কর্মী পাঠানোর খরচ অপেক্ষাকৃত কম। দালালের দৌরাত্ম্য নেই। বেতন-ভাতাও সন্তোষজনক, কমবেশি এক লাখ ৪০ হাজার টাকা, বেতন পাওয়া যায় নিয়মিত। কর্মপরিবেশও ভালো।  কর্মী হিসেবে জাপান যেতে দেশটির ভাষা জানা অপরিহার্য। একবার যেতে পারলে সে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগও আছে। এমন আকর্ষণীয় শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর জন্য দেশটিকে ভালোভাবে বেছে নিতে পারছে না বাংলাদেশ বা এত সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশিরা জাপানে খুব কমই যাচ্ছেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, জাপানি ভাষা শিক্ষা ছাড়া দেশটিতে কোনো কাজ পাওয়া যায় না। অনেকের ধারণা, পরিচর্যাকারী (কেয়ার গিভার) ছাড়া অন্য কাজের জন্য লোক নেয়া হয় না।

জাপানে আরও ১৩টি খাতে চাকরি করার সুযোগ আছে। এগুলো হচ্ছে রেস্টুরেন্ট, কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণ, বিল্ডিং ক্লিনিং, কৃষি, খাবার ও পানীয় শিল্প, সেবা, ম্যাটেরিয়ালস প্রসেসিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি, জাহাজনির্মাণ শিল্প, মৎস্যশিল্প, কার পেইন্টিং, ওয়েল্ডিং ও অটোমোবাইল মেকানিক বা অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ তৈরি শিল্প এবং এয়ারপোর্ট গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অ্যান্ড এয়ারক্রাফট মেনটেন্যান্স (এভিয়েশন)। যদিও আপাতত কেয়ার গিভার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং, ওয়েল্ডিং ও অটোমোবাইল মেকানিক, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিংয়ে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন (টিআই) হিসেবে বেশি লোক নিচ্ছে।

সম্প্রতি এক সেমিনারে প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা বলেছেন, জাপানে লোক পাঠানোর খরচ খুব বেশি নয়। সেখানে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে লোক নিয়োগের সুযোগ নেই।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ইতোমধ্যেই ৩২টি কেন্দে র মাধ্যমে ছয় মাস মেয়াদি কোর্স চালু করে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে। এটি প্রশংসনীয়।

মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দেশগুলোয় যেতে আমাদের শ্রমশক্তিকে নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশ গিয়েও প্রতারিত হন তারা। দূতাবাস থেকেও নীতিসহায়তা পান না। সেখানকার দৃষ্টান্ত মাথায় রেখে বিদেশ যাওয়ার প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। মনে রাখতে হবে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় উৎস।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত শনিবার ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত ‘এনআরবি কানেক্ট ডে: এমপাওয়ারিং গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমাদের অর্থনীতি একেবারে নিচে নেমে গিয়েছিল। আপনাদের রেমিট্যান্সই তা বাঁচিয়েছে। অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পেছনে আপনাদের রেমিট্যান্সই মূল চালিকা শক্তি। তাই জাপানে আমাদের নতুন সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার ধরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।