শেয়ার বিজ ডেস্ক : জেদ্দায় স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরশত্রু বার্সেলোনার কাছে হারের ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই কোচ জাবি আলোনসোকে ছেঁটে ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। গত সোমবার ইউরোপের সফলতম ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানায়, পারস্পরিক সম্মতিতে আলোনসোর চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রিয়ালের আরেক ঘরের ছেলে আলভারো আরবেলোয়াকে। ক্লাবের সাবেক পরিচালক হোর্হে ভালাদানোর অভিযোগ, যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি আলোনসোকে। এমনকি স্প্যানিশ এ কোচ ক্লাব থেকে তেমন সমর্থন পাননি বলেও দাবি তাঁর।
জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুজেনের কোচ হিসেবে অসামান্য সাফল্যের পর গত জুনে তিন বছরের চুক্তিতে রিয়ালে যোগ দেন ক্লাবটির সাবেক খেলোয়াড় আলোনসো। সরিয়ে দেওয়া হয় অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। স্পেনের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তখন লেখা হয়েছিল, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে। কিন্তু মাত্র সাত মাসেই শেষ হয়ে আলোনসোর রিয়াল অধ্যায়। তাঁর অধীনে রিয়াল ৩৪ ম্যাচের মধ্যে জিতেছে ২৪টি, ড্র করেছে চারটি এবং হেরেছে ছয়টি।
দায়িত্ব নিয়েই ৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপে রিয়ালকে সেমিতে নিয়ে যান আলোনসো। এরপর লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও দারুণ সূচনা করে রিয়াল। সব মিলিয়ে ১৪ ম্যাচের মধ্যে ১৩টিতে জিতে তারা। এর মধ্যে ছিল বার্সার বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম ক্ল্যাসিকোয় ২-১ গোলের জয়ও। তবে এরপরই বেশ কয়েক ম্যাচ হোঁচট খেয়ে বার্সার কাছে শীর্ষস্থান হারায় তারা। তখন সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আট ম্যাচের মধ্যে শুধু দুটি জিততে সমর্থ হয় তারা। এরপরই আলোনসোর দিকে ধেয়ে আসতে থাকে সমালোচনার তীর। ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো, বেলিংহামসহ খেলোয়াড়দের একটি গ্রুপের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের বিষয়টি হয়ে পড়ে ওপেন সিক্রেট। তখনই ছাঁটাইয়ের গুঞ্জন ডালপালা মেলতে থাকে। এরপর অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছিল রিয়াল। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে জেদ্দার ফাইনালে উঠেছিল তারা। কিন্তু ফাইনালে বার্সার কাছে হারে কপাল পোড়ে আলোনসোর।
গোলডটকমসহ কয়েকটি ওয়েবসাইটের মতে, আলোনসোর রিয়াল ছাড়ার পেছনের কারিগর নাকি কিলিয়ান এমবাপ্পে! অথচ এত দিন ড্রেসিংরুমে আলোনসোর পক্ষের লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এ ফরাসি তারকা। ভিনি-রদ্রিগোর সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে এমনিতেই ড্রেসিংরুমে আলোনসোর নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এর মধ্যে রোববার সন্ধ্যায় স্প্যানিশ সুপার কাপে হারের পর এমবাপ্পের একটি আচরণ এ পরিস্থিতিতে ঘি ঢালে। হারের পর রীতি অনুযায়ী বার্সাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিলেন রিয়ালের খেলোয়াড়রা। প্রতিপক্ষকে সম্মান জানাতে কোচও নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদের। কিন্তু এমবাপ্পে সতীর্থদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান, যা ছিল আলোনসোর কফিনে শেষ পেরেক। বিষয়টি নিয়ে স্পেনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। রিয়াল বোর্ড প্রশ্ন তোলে, কোচের তো খেলোয়াড়দের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই!
অবশ্য এমন অভিযোগ ওঠার পরও আলোনসোকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি এমবাপ্পে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘সময়টা সংক্ষিপ্ত হলেও আপনার জন্য খেলে ও আপনার কাছে শিখতে পারাটা ছিল ভীষণ আনন্দের। প্রথম দিন থেকে আমাকে আত্মবিশ্বাস জোগানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। নতুন অধ্যায়ের জন্য আপনাকে শুভকামনা।’
স্প্যানিশ কয়েকটি গণমাধ্যম অবশ্য গার্ড অব অনারের ঘটনাকে ধর্তব্যের মধ্যে আনতে নারাজ। তাদের মতে, রিয়ালে আলোনসো আশা দেখাতে পারেননি। লেভারকুজেনে আলোনসো নিজের কোচিং দর্শনে বাজিমাত করেছিলেন, রিয়ালে সেটা প্রায় ছিলই না। ম্যাচ জেতার জন্য তাঁকে নির্ভর করতে হয়েছে বিশেষ কোনো মুহূর্ত বা কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত দক্ষতায়। তাঁর সুনির্দিষ্ট কৌশল ছিল না, ছিল না তেমন সৃষ্টিশীল উদ্ভাবনও। তাঁর অধীনে শুধু এমবাপ্পে নিজের মতো করে খেলতে পেরেছেন। ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো তো বটেই, আগের মৌসুমে দুরন্ত খেলা বেলিংহামসহ তারকাদের প্রায় সবাই ঢাকা ছিলেন নিজেদের ছায়াতে। এই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার মুনশিয়ানা দেখাতে পারেননি আলোনসো।
