Print Date & Time : 3 May 2026 Sunday 10:32 am

জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, চাই না: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, তা চান না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জিয়া পরিষদের সদ্য প্রয়াত সভাপতি ডা. আব্দুল কুদ্দুসের স্বরণসভা ও মিলাদ মহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির অনেক অঙ্গ সহযোগী সংগঠন রয়েছে। আরেকটি সহযোগী সংগঠনের দরকার নেই। আমাদের দরকার জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা প্রতিষ্ঠান। জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, চাই না। এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। আমার চাপে জিয়া পরিষদ কয়েকটি বই করেছে। তারা গবেষণামূলক কাজ করুক, সেটি প্রত্যাশা।’

সরকারের ভেতর যত ঢুকছেন, তত আতঙ্কিত হচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারে আসার পর যেদিকে তাকাই শুধু অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি দেখতে পাই। সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে নিয়ম হয়েছিল, তদবির ছাড়া কাজ হয় না। এটি ১৫ বছরে হয়েছে। অনেকে ভাইস চ্যান্সেলর হতে তদবির করেছেন- এটা দুঃখজনক। এটি সিস্টেমের দোষ। মূলত মেধা ও বুদ্ধিমত্তা ছাড়া সামনে এগোনো যায় না।’

ফ্যাসিস্টবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নতুন করে বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে বাহাস হচ্ছে। তা ভালো, কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে এগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদের প্রতিটি জায়গায় আমরা ছিলাম। আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি কিছু জায়গায়। আমরা স্বাক্ষরও করেছি। এখন অবলীলায় বলছে, সবটাই করতে হবে। উচ্চকক্ষে পিআরে আমরা একমত হইনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়েও আমরা একমত হইনি। সবকিছু সংসদের করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলে, বিএনপি সংস্কার মানে না। অথচ বিএনপিই সংস্কারের জনক। জিয়াউর রহমান প্রথম সংস্কার এনেছিলেন। তারা মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে। জামায়াত এটা নিয়ে আন্দোলনও করছে। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা। আইনমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনে কমিটির নাম চেয়েছেন। আশাকরি দ্রুত তারা নাম দেবে।’

এখন অযথা তর্ক-বিতর্ক এফোর্ট করতে পারেন না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতিকে ঠিক করা। এ অবস্থার উত্তরণে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। ফ্যাসিস্ট আমলে ৮০ লাখ কোটি টাকা দেনা রেখে গেছে। ফ্যাসিস্টের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলে পুনর্গঠন করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

ছাত্র রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবীদের যুক্ত করতে হবে। সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে হবে। নাহলে এটি অতীতে অনেক ক্ষতি করেছে, আগামীতেও করবে।’

এ সময় জিয়া পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব এমতাজ আহমেদ, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হাসান রতন, কৃষিবিদ মনোয়ারুল ইসলাম এনাম ও শেরেবাংলা থানার যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর রেজাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. আবদুল লতিফ বলেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস শুধু একজন সংগঠকই নন, তিনি ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ, যিনি নীরবে-নিভৃতে মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জিয়া পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। বক্তারা মরহুমের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং তার সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশংসা করেন।

স্মরণসভা শেষে দোয়া ও মোনাজাতে মরহুম অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল আবেগঘন ও শোকাবহ, যেখানে উপস্থিত সবাই মরহুমের স্মৃতির প্রতি নীরব শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।