Print Date & Time : 3 May 2026 Sunday 8:49 pm

জুলাই শহিদকন্যা ধর্ষণ মামলায় তিন আসামির কারাদণ্ড

প্রতিনিধি, পটুয়াখালী : জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ জসিমের কন্যা পটুয়াখালীর দুমকির আলোচিত লামিয়া আক্তারকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাকিব মুন্সী ওরফে সাকির আল হাসান, সিফাত মুন্সী ও ইমরান মুন্সীকে ১০ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া পর্নোগ্রাফি আইনে সাকিব মুন্সী ওরফে সাকির আল হাসান, সিফাত মুন্সীকে আরও তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে বিচারক নিলুফার শিরিন এ রায় দেন। আদালতে ১৬ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে এই রায় দেয়া  হয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়, দণ্ডপ্রাপ্তরা অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফলে শিশু আদালত আইনের আওতায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে আলোচিত এই মামলার রায়কে ঘিরে সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাত্তার ব্যবস্থা করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামিদের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে নিয়ে আসা হয়। মামলার রায় শোনার জন্য আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাংগাশিয়া ইউনিয়নে নিজ বাড়ি থেকে নানা বাড়ি যাওয়ার পথে গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় লামিয়া সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার পর তিনি নিজেই বাদী হয়ে দুমকি থানায় মো. সাকিব মুন্সি (১৭) ও মো. সিফাত মুন্সির (১৯) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে দুমকি থানার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি রফিকুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেছেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে দৃষ্টান্তমূলক এ শাস্তি নজির স্থাপন করবে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাড. মো. মজিবুর রহমান টোটন বলেন, এই মামলার রায় সমাজের জন্য একটি কঠিন বার্তা। কেউ অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার বাসা থেকে জুলাই আন্দোলনের শহিদ জসিম উদ্দিনের কন্যার (১৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জসিম হাওলাদার গত বছরের ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ১০ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।