দেলোয়ার কবীর, ঝিনাইদহ : চলতি বোরো মৌসুমে জেলার ছয় উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বা ডিএই। জেলায় ৯০ হাজার ২৪০ হেক্টরে এর আবাদ হবে আর প্রতি হেক্টরে গড়ে উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৪২ টন। ডিএইর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ধানচাষকে লাভজনক করতে ইতোমধ্যে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে গেছে বোরো ধানের চারা রোপণের কর্মযজ্ঞ; যা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে বলে ওই সূত্র মনে করছে।
জেলার সীমান্তবর্তী খালিশপুর ও জলিলপুর এবং কোট চাঁদপুরের সোলেমানপুরের বোরোচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ধানের দরপতনে হতাশ হলেও খড় বা বিচালির দাম ভালো পাওয়াতে ধানের আবাদ কমাতে পারছেন না। তাছাড়া দেশের মানুুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে ধানই তাদের কাছে অগ্রাধিকারভিত্তিক ফসল।
ওই ধানচাষিদের মতে, ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা প্রতিমণ ধান বিক্রি করে লাভের মুখ দেখা ভার। তবে বিঘাপ্রতি যে বিচালি খড় পাওয়া যায়, তা সাড়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, বিধায় ধানচাষ এখনও তারা আঁকড়ে আছেন। তাছাড়া নিজেদের খাওয়ার জন্য কিছু ধান তাদের দরকার হয়েই থাকে, যার কোনো বিকল্প নেই।
ঝিনাইদহ খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার জেলায় ৭০ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ৯৯৯ হাজার ২০৩ টন চাল উৎপাদনের জন্য তারা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। হেক্টরপ্রতি গড়পড়তা চালের ফলন ধরা হয় ৪ দশমিক ৪২ টন। তাদের মতে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ২৩ হাজার ৮৭৫ হেক্টরে, কালীগঞ্জে ১৬ হাজার ৯৫৬ হেক্টরে, কোটচাঁদপুরে ৬ হাজার ৬৫ হেক্টরে, সীমান্তবর্তী মহেশপুরে ২১ হাজার ৮৬০ হেক্টরে, শৈলকুপায় ১৩ হাজার ২১৮ হেক্টরে এবং হরিণাকুন্ডু উপজেলায় ৯ হাজার ৩০৬ হেক্টরে এ ধানের আবাদ হচ্ছে। গত বোরো মৌসুমেও জেলায় ৯০ হাজার ২৮০ হেক্টরে বোরো ধানের আবাদ হয় এবং হেক্টরপ্রতি ফলন ছিল ৪ দশমিক ৪১ টন চাল, জানিয়েছে ওই সূত্র।
ডিএই ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার (ইউএও) নূর ই নবীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানালেন, ওই উপজেলা তথা জেলার চাষিরা বরাবরই চাষাবাদের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী ও সচেতন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বোরা ধানচাষে তাদের উৎসাহিত করতে আড়াই হাজার কৃষকের মধ্যে উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের বীজ এবং সার ইত্যাদি প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে। এছাড়া ডাই এমুনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি এবং মিউরিয়েট অব পটাশ বা এমওপি সার সরবরাহ করা হয়েছে। এতে বোরোচাষিরা উৎসাহিত হয়েছেন এবং সার ও বীজ বাবদ তাদের উৎপাদন খরচের একটা বড় অঙ্ক কমে যাবে বিধায় তারা কিছুটা হলেও লাভবান হবেন।
ইউএও নূর ই নবী জানান, যেহেতু এই জেলার চাষিরা মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন কিন্তু আশানুরূপ উৎপাদন বা ফলন পান না, তাদের সুষম সার ব্যবহার, সেচের পানির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং উন্নত প্রযুক্তি ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বেশি পরিমাণে ফসল ঘরে তুলতে সহযোগিতা করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কৃষি অফিসার বা এসএএওদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘন কুয়াশায় যেহেতেু বেড়ের চারা এবং সদ্য রোপণকৃত বোরোচারার ক্ষতি হতে পারে; তাই সকাল হতেই ওই সব জমি থেকে লাঠি বা কাঠির সাহায্যে কুয়াশা সরিয়ে ফেলতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, ধানের দাম কিছুটা বাড়বে এবং ধান ও বিচালি বিক্রি করে কৃষক বেশ লাভবান হবেন।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post