নুরুন্নাহার চৌধুরী কলি : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক লোকসানে রয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং মোট সম্পদ ঋণাত্মক পর্যায়ে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।
কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষার সময় এই শঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, আলোচ্য অর্থবছরে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৭ লাখ টাকা, যা শেয়ারপ্রতি হিসেবে (১০.০৫) টাকা। এর ফলে কোম্পানিটির রিটেইন আর্নিংস আরও কমে গিয়ে ঋণাত্মক ১৪৯ কোটি ২২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক (১৬.১৫) টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশফ্লো হয়েছে (০.৪৯) টাকা।
এই আর্থিক চিত্রের ভিত্তিতে নিরীক্ষক মত দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজের পর্ষদ।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ। এর আগে ২০২২-২৩ হিসাববছরেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি কোম্পানির পর্ষদ।
এদিকে দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করা যায়নি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইডে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা মিল্কের কোনো কোম্পানি সচিব নেই। কিংবা কোম্পানি সচিবের কোনো ফোন নম্বরও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র ও পরিচালক মো. আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, কেনো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইডে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের কোম্পানি সচিবের নাম নেই ওই কথা মেঘনা মিল্ককে জিজ্ঞেস করেন। আমি বলতে পারব না।
২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন ৮০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৬ কোটি টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখ। এর মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ও বাকি ৫৫ দশমিক ৮২ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। সর্বশেষ বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৭ টাকা।
উল্লেখ্য, মেঘনা গ্রুপের অধীন ফ্রেশ ব্র্যান্ডের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের (মেঘনা মিল্ক/ফ্রেশ মিল্ক) মালিক হলেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল। এটি দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি শিল্পগোষ্ঠী, যা বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য, সিমেন্ট, চিনি ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post