নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা আট মাসের নিম্নমুখী ধারা ভেঙে চলতি বছরের এপ্রিলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়। তৈরি পোশাক খাতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির প্রভাবে এ মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা সামগ্রিক রপ্তানি খাতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। গতকাল রোববার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে দেশের রপ্তানি আয় ২ শতাংশ কমে ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।
ইপিবি জানায়, এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার। এ শক্তিশালী পুনরুদ্ধার বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে চাহিদা বৃদ্ধি ও দেশের রপ্তানি খাতগুলোর সক্ষমতার প্রতিফলন।
এপ্রিল মাসে প্রায় সব প্রধান রপ্তানি খাতেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের খাত তৈরি পোশাক শিল্প থেকে আয় হয়েছে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি বলে ইপিবির তথ্যে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, বিগত ৮ মাস ধরে রপ্তানি আয় কমলেও মার্চ মাসে এই হার ছিল সবচেয়ে বেশি। চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম ৯ মাসে (জুলাই থেকে মার্চ) আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ সময় রপ্তানি খাতে ৩ হাজার ৫৩৯ কোটি ডলারের মতো আয় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ হাজার ৭৭২ কোটি ডলারের কিছু বেশি।
রপ্তানির এই টানা পতনের কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্কিন পালটা শুল্ক এবং শুল্ক কেন্দ্র করে প্রতিযোগী দেশগুলো জোটগত প্রধান বাজার ২৭ জাতির জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে অগ্রাসী রপ্তানি বাণিজ্য করছে। কম দামে পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে ওই দেশগুলোতে। এ কারণে গত ৮ মাস ধরেই বাংলাদেশের রপ্তানি কমছে। এ ছাড়া ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গড়ে ১০ দিনের মতো কারখানা বন্ধ ছিল। এ কারণে মার্চের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় ধরে উৎপাদন ও রপ্তানি প্রথম পৃষ্ঠার পর
কার্যক্রম থেমে যায়। মূলত এ কারণেই মার্চে এত বেশি হারে রপ্তানি কমেছে।
বাংলাদেশে রপ্তানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পেও আয় কমেছিল। দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা, ক্রেতাদের কম অর্ডার, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইউরোপের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে কয়েক মাস ধরেই রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল।
তখন এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসাবে সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে কাক্সিক্ষত ক্রয়াদেশ না থাকা, প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসী নীতি এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কারখানা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা। রপ্তানির এই টানা পতনের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বৃদ্ধি, টাকার মান কমে যাওয়া এবং শিল্প ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা সেই সময় তারা করেছিলেন।

Print Date & Time : 4 May 2026 Monday 1:03 am
টানা ৮ মাস পর পতনের ধারা ভাঙল রপ্তানি আয়
দিনের খবর ♦ প্রকাশ: