Print Date & Time : 20 April 2026 Monday 3:49 am

ট্রাকস্ট্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস!

এফ আই মাসউদ: পরিবার একটি হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে দেশের দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়Ñরয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা এবং ড. মমতাজ বেগম ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিবারটির কয়েকজন সদস্য দেশ ছাড়লেও অনলাইন নির্দেশনার মাধ্যমে এখনো এই প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
২০০৩ সালে অনুমোদন পাওয়া রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মাত্র ৫০০ শিক্ষার্থী ও প্রায় ৩০ জন শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে ২০২১ সালে অনুমোদিত শেখ হাসিনা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি পরে নাম পরিবর্তন করে ড. মমতাজ বেগম ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করা হয় এবং ভৈরবে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এর কার্যক্রম শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সুন্দর, শান্ত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই তার ব্যতিক্রম দেখা যায়। ক্যাম্পাস প্রকৃতির কোলে সুন্দর জায়গায় গড়ে ওঠার কথা থাকলেও বর্তমানে কিছু সমস্যা ও ঘটনা পরিবেশ নষ্ট করছে। ট্রাকস্ট্যান্ডের মতো একটি জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী কাম্পাস পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
যেখানে দিন-রাত টুনটাং শব্দে মেরামত, চলাচল করছে ট্রাক, সেখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে ঝুঁকি নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাদের চলাচলে নেই কোনো নিরাপত্তা। ট্রাকস্ট্যান্ডের পাশে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সাইফুল ইসলাম। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টায় এখানে ট্রাক চলাচল করে। এখানে চলাচল করাই যেখানে ঝুঁকি, সেখানে শিক্ষার্থীরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে পড়তে আসে, তার জানা নেই। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এমন স্থানে কীভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়?’
সম্রাট নামে আরেকজন বলেন, চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন এখানে আসতে হয়। তবে এখানে যে একটি ক্যাম্পাস আছে, সেটাই তো বোঝা যায় না। এটি কি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, নাকি কোনো কোচিং সেন্টার, তা বুঝাই মুশকিল। এমন একটি জায়গায় কি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে?
তবে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার দুপাশে সারি সারি ট্রাক। এর মধ্যে কোনো কোনো ট্রাক বের হচ্ছে, আবার কোনো ট্রাক সেখানেই অবস্থান করছে। আবার কোনো ট্রাকের মেরামতের কাজও চলছে। যেখানে টুংটাং শব্দ হচ্ছে, করা হচ্ছে ওয়েল্ডিং। ট্রাকগুলো দুপাশে অবস্থানের কারণে চলাচলও সীমিত হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের চলাচল অনেক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসারে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ পেতে হলে সাতটি শর্ত পূরণ করতে হয়। সেগুলো হলোÑশর্তানুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কমপক্ষে এক একর এবং অন্যান্য এলাকায় কমপক্ষে দুই একর নিষ্কণ্টক, অখণ্ড ও দায়মুক্ত নিজস্ব জমি থাকতে হবে; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমিতে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী স্থায়ী ভবন নির্মাণ করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি, বন্ধক বা অন্যভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। এছাড়া প্রতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ছয় শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে, যার তিন শতাংশ থাকবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য এবং তিন শতাংশ থাকবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য। তাদের টিউশন ফি মাফ থাকবে এবং এ তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, চলাফেরা ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে; কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বার্ষিক বাজেট থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ গবেষণার জন্য বরাদ্দ ও ব্যয় করতে হবে; সাময়িক অনুমতিপ্রাপ্ত প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সনদপত্র প্রাপ্তির জন্য আবেদনের আগে এই আইনের অধীন প্রযোজ্য সব শর্তাদি প্রতিপালন করতে হবে।
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হেফজুল বারী মোহাম্মদ ইকবাল (এইচবিএম ইকবাল), যিনি সাবেক সংসদ সদস্য। তার পরিবারের সদস্যরাই মূলত ট্রাস্টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় তিনি ও তার পরিবার বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে এবং আদালত বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে এসব পদক্ষেপের পরও পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিদেশে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, চেয়ারম্যান অনলাইনে সভায় যুক্ত থাকেন এবং তার মনোনীত প্রতিনিধিরা দেশে থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে না বলে তারা উল্লেখ করেন।
তবে এই প্রেক্ষাপটে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতে আরেকটি গুরুতর সমস্যা সামনে আসে সনদ বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা বা শিক্ষাগত মান বজায় না রেখেই অর্থের বিনিময়ে স্নাতক, সম্মান ও স্নাতকোত্তর সনদ দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা শুধু কাগজে-কলমে ভর্তি হয়ে অর্থ পরিশোধ করলেই দ্রুত ডিগ্রি পেয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন গবেষণা ও অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করে এসব সনদ পাওয়া যায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্যমতে, ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যেই অনেক ক্ষেত্রে ডিগ্রি কেনা সম্ভব। এতে করে প্রকৃত শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং যোগ্যতার পরিবর্তে ‘সনদসর্বস্ব’ গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু বৈধ বিশ্ববিদ্যালয়ও সরকারের অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন স্থানে আউটার ক্যাম্পাস খুলে ব্যবসা চালাচ্ছে, যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পরিপন্থি। এসব কার্যক্রমে দালাল চক্র, অসাধু কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্যক্তির যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।
একটি তদন্তে দেখা গেছে, মাত্র ছয় মাসে প্রায় ৪০০ ভুয়া শিক্ষার্থী আইডি তৈরি করে কোটি টাকার লেনদেন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতের একটি অংশে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং সনদ বাণিজ্যের মতো সমস্যাগুলো উচ্চশিক্ষার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ শেয়ার বিজকে বলেন, ছাত্রছাত্রীদের চাহিদা মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে তারা স্বচ্ছন্দে পড়াশোনা করতে পারে এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে। তবে এই পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। বিশেষ করে ঢাকায় বিপুলসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠায় প্রত্যাশিত মানের পরিবেশ নিশ্চিত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে, যার ফলে সেখানে একাডেমিক কার্যক্রম ও এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রম মোটামুটি ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরির সুবিধাও কিছু প্রতিষ্ঠানে সন্তোষজনকভাবে কাজ করছে, যদিও অন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে।
এই ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে তা পূরণ করার দায়িত্ব পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা মানদণ্ড পূরণ না হলে তাদের সনদ দেওয়ার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে একটি উদ্বেগজনক বিষয় হলোÑকিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ক্লাস বা একাডেমিক কার্যক্রম ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে সনদ প্রদান করছে। তবে ইউজিসি জানায়, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত তাদের তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং তালিকার বাইরের কিছু অবৈধ প্রতিষ্ঠান ভুয়া প্রোগ্রামের নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করছে।
ইউজিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। কোনো অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয় এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারা প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হয় এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা না ঘটে।
রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম বলে তিনি স্বীকার করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি গত বছরের ডিসেম্বরে জয়েন করেছি। এরপর আমি সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, মাঠে প্রবেশের জায়গায় টিন দেওয়া ছিল, সেখানে গেট লাগানো হয়েছে এবং এই কাজটা শেষ। এখন আরেকটু জাস্ট সিকিউর করলে এখানে আর কোনো নিরাপত্তাজনিত সমস্যা নেই। তিনি দাবি করেন, অনেক বড় খেলার মাঠ আছে, কিন্তু উপযোগী ছিল না, তা তিনি উপযোগী করেছেন।
তিনি বলেন, মাঠটি অব্যবহƒত, অব্যবস্থাপনা এবং যেটাকে বলে যে, অনীহা, অযত্ন ও অবহেলায় ছিল। এখানে এখন ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও এনিথিং ক্যান বিজয়।
ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, চ্যানেল ২৪ রোডটা কিন্তু অনেক বড়, কিন্তু ওই একদম সাত রাস্তার পয়েন্ট থেকে আমাদের ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত ওই ট্রাকে ভরা। এই ট্রাকগুলা দুই পাশে কিছু মেরামত করে, কিছু ওয়েল্ডিং করে, কিছু রিপেয়ারিং করে; কিন্তু ওইগুলোর ওপর আমাদের আসলে ডাইরেক্ট কোনো হাত নেই।
তিনি বলেন, আমরা কাকে বলব, কাকে বলব না। যেহেতু এটা আউটসাইড অব দ্য ক্যাম্পাস। এই রোডের মধ্যে বিস্তৃত হয়ে আছে। আমরা এতদিন কোনো প্রতিনিধিকে বলতে পারিনি। এখন যেহেতু সরকার গঠিত হয়েছে, কাউকে সেটা জানাব।
শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়াতে নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এতদিন সার্চ করছিলাম যে, কোথায় অ্যাপ্লিকেশনটা দেব; ধরেন এক জায়গায় দিলামÑএটা হ্যাঙ্গিং হয়ে পড়ে থাকলে, একটা প্রতিনিধি থাকলে অথবা গভর্নমেন্ট ফর্ম হলে, তখন ধরেন যেকোনো ফর্মে দেওয়া রিকোয়েস্ট পৌঁছানো যায় এটার একটা সুব্যবস্থাপনার জন্য।
সনদ বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, এরকম প্রচুর জিনিস অসংগতি ছিল। এখানে দীর্ঘদিনের একটা সিন্ডিকেট প্যারালালি গড়ে উঠছিল। আমি সবকিছু স্টপ করে দিয়েছি। আমাদের এইখানে নানারকম অনিয়মের যারা জš§ নিয়েছে, তারা তো এখন নেই। আমি আসার পরে দেখছি, আগে অনেকগুলা স্পট এখানে তৈরি করছে।
তার মতে, একটি স্থায়ী ক্যাম্পাকে অনেক বেশি শিক্ষার্থী দরকার। সেখানে মাত্র ৫০০ শিক্ষার্থী, এটা একেবারেই কম। আমরা শিক্ষকদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছি।
অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে একটা টাকার এখানে এন্ট্রান্স দিই না এবং বলেছি, যে বা যার হাতে পাঁচ টাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাকে এক্সপায়ার। আমারও ধারণা, অনেক টাইপের ইরেগুলারিটি এখানে ছিল, কিন্তু আমরা চাচ্ছি এটাকে পরিপূর্ণভাবে রুটআউট করে ফেলতে এবং অলরেডি কিন্তু এখন আর কেউ ওরকম সাহসও করে আসে না, এলেও কিছু প্যান-প্যান করে চলে যায়।
সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট কারা আমি এক্স্যাক্টলি বের করতে পারিনি। এমন টাইপের সূক্ষ্মভাবে কিছু আছে, এখান থেকে বাদ পড়ে চলে গেছে। আগের এডমিনিস্ট্রেশন বাদ দিয়ে দিয়েছে। আর কিছু আছে নিজেই ভয়ে চলে গেছে।
সম্প্রতি বরিশালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে অনেক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের বিষয়গুলো নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের জন্য কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। ১৯৯২ সালের আইন অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চলছিল। পরে ২০১০ ও ২০২৫ সালে তৎকালীন সরকার এটিকে পরিবর্তন করে। আলোচনার মাধ্যমে যে সংস্কারগুলো প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে আসা হবে। ক্যাসমেন্ট ছাড়া অযাচিতভাবে রাজনৈতিক মোটিভেশনে অনেক স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেগুলো অনিয়ন্ত্রিত এবং সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। সে কারণে এগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে একটি সমীক্ষা করতে হবে এবং সে অনুযায়ী একটি প্ল্যান মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে।