Print Date & Time : 16 May 2026 Saturday 2:48 am

ট্রাম্প-শি শীর্ষ বৈঠকেও অগ্রগতি অনিশ্চিত

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে আলোচনার শেষ দিনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে এখন পর্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপ এবং সতর্কভাবে পরিচালিত প্রতীকী কর্মকাণ্ড দেখা গেলেও, এই আলোচনা থেকে বড় কোনো অর্থনৈতিক ফলাফল কমই সামনে এসেছে। খবর বিবিসির।
প্রথম দিনে শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতাদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ভাষণসহ ছিল জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় বাণিজ্যিক অগ্রগতি বা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক চুক্তির ঘোষণা আসেনি।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করলেও বাস্তব ফলাফল সীমিত।
শি জিনপিং দক্ষিণ কোরিয়ায় আলোচনার অগ্রগতির কথা বললেও তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর সতর্কতা দেন। তিনি বলেন, এটি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়াতে পারে।
এই সফরে প্রতীকী উপস্থিতিও গুরুত্ব পায়, বিশেষ করে ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াংয়ের অংশগ্রহণ, যা প্রযুক্তি ও এআই খাতকে কেন্দ্র করে আলোচনার ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্প দাবি করেন, চীন শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করবে এবং ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত।
আলোচনার পরও বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তি বা কাঠামোগত সমঝোতা হয়নি। বরং অক্টোবরের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বৃদ্ধি স্থগিত রেখেছে এবং চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে শিথিলতা দেখিয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের বিষয়ে সম্মতি হয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক পরিচালিত হবে।
চীন ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানি বাড়াবে, তবে নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি ঘোষণা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিষয়ে এখনো অনেক কাজ বাকি।
সবচেয়ে স্পষ্ট উত্তেজনার ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে প্রযুক্তি ও তাইওয়ান ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্র উন্নত চিপ ও এআই প্রযুক্তিতে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, আর চীন এসব সীমাবদ্ধতার সমালোচনা করছে।
এআই নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও বড় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও জ্বালানি স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে প্রতীকী অগ্রগতি থাকলেও, বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তি এখনো অধরাই রয়ে গেছে।