নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনে যে কয়টি শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে, তার চেয়ে আড়াইগুণ বেশি সংখ্যকের বেড়েছে। এতে এক্সচেঞ্জটির প্রায় সবগুলো সূচক এক শতাংশ হারে বেড়েছে। আর লেনদেন দিনের ব্যবধানে প্রায় ৬৮ শতাংশ বেড়েছে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৩টির। আর ৫৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৬টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ১৯টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮টির এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮টির দাম কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৪৭ কোটি ২৮ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৬৫ কোটি ৪৭ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩৮১ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার। ৩১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑখান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ব্র্যাক ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ইস্টার্ন ব্যাংক, এসিআই এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১২৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৩টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অপসারণ বাজারে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে গ্রহণ করেছে বিনিয়োগকারী। পাশাপাশি নতুন গভর্নরের সুদহার কমানোর ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি উৎসাহ প্রদান করেছে। এছাড়া নতুন সরকার ও নতুন গভর্নরের সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের সিদ্ধান্তে পুনর্বিবেচনাসহ বেশ কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন প্রত্যাশায় পুঁজিবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে। তবে কেউ কেউ মনে করেন এটি নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ওপর আস্থার ধারাবাহিক প্রতিফলন।
