নুরুন্নাহার চৌধুরী কলি : এক দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। তবে এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের মাঠের প্রচারণা তেমন লক্ষ করা যায়নি। প্রার্থীদের অনেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচারণা করতে দেখা গেছে।
অনেকের নির্বাচনী প্রচারে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা ভোটের মাঠের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। অনেক প্রার্থীর রেকর্ডকৃত কণ্ঠে কল এসেছে ভোটারদের কাছে। ফোন রিসিভ করলেই শোনা গেছে রেকর্ড করা বক্তব্য। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অনেক প্রার্থীর নম্বর থেকে এমন কল আসে।
প্রার্থীরা বলছেন, অধিকাংশ মানুষ ও ভোটার কর্মজীবী। তারা দিনের বেলায় কর্মস্থলে কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই তাদের কাছে প্রার্থীদের পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হয় না। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রার্থীরা মাঠ ও অনলাইন দুই মাধ্যমেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রচারে। বিষয়টি ভোটারদেরও নজর কাড়ছে।
নির্বাচনী প্রচারণাযুক্ত প্রার্থীদের একাধিক কর্মী জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কম খরচে এবং অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক ভোটারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার, প্রবাসী ভোটারদের এবং কর্মজীবী মানুষদের কাছে পৌঁছাতে অনলাইন প্রচারণা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সারা দেশে থাকবে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র। এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৬০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।
সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী আকিব রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘মুঠোফোনে আমি এক প্রার্থীর রেকর্ড করা ভয়েস কল পেয়েছি। এটা প্রচারে নতুন অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো থেকে প্রার্থী মূল্যায়নে ভোটারদের জন্য সুবিধা হয়েছে।’
তেজকুনি পাড়ার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী সজীব শেয়ার বিজকে বলেন, অনলাইনে নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় প্রার্থীরা। গণসংযোগের ছবি ও ভিডিও দ্রুত তারা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, এতে সহজেই অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছেন।
গতকাল সোমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাদের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। বিরামহীন প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ভোটারদের কাছে গিয়ে শুনছেন তাদের প্রত্যাশার কথা, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের পর আর প্রচার চালাতে পারবেন না প্রার্থীরা। নিয়ম অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে প্রচার।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। বিধান অনুযায়ী, গত ২২ জানুয়ারি শুরু হয় এই নির্বাচনী প্রচার।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই দেওয়া হতে পারে। দলের ক্ষেত্রেও এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।
এই নির্বাচন ও গণভোট কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে। ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক এবং জরুরি সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন এবং ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহƒত দ্রব্যাদি ও সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।
আত্মীয়-স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর থেকে যাত্রী বা আত্মীয়-স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে অথবা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহƒত যানবাহন (টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন) এবং দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যে কোনো যানবাহনের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।
