শেয়ার বিজ ডেস্ক: ঢাকায় আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম টেক্সটাইল সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম ‘ইনটেক্স সাউথ এশিয়া’র বাংলাদেশ সংস্করণ ‘ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬’। বৈশ্বিক টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে গুরুত্ব দেওয়া হবে টেকসই ও উদ্ভাবনী সোর্সিং সমাধানের ওপর।
আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত ১১ বছরে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতে ইনটেক্স সাউথ এশিয়া সিরিজের ১৭টি সফল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবারের আয়োজন বৈশ্বিক টেক্সটাইল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইল প্রস্তুতকারকদের কার্যকর যোগাযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক পোশাক উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেও সহায়ক হবে এ প্রদর্শনী।
প্রদর্শনীতে ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, হংকং, তাইওয়ান, উজবেকিস্তান, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অগ্রণী প্রতিষ্ঠান ও খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
ভারতের শীর্ষ টেক্সটাইল রপ্তানি উন্নয়ন সংস্থা দ্য কটন টেক্সটাইলস এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল (টেক্সপ্রসিল), পাওয়ারলুম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল (পেডেক্সিল), ম্যানমেড অ্যান্ড টেকনিক্যাল টেক্সটাইলস এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল (ম্যাটেক্সিল) এবং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) সহায়তায় ভারতের শতাধিক প্রতিষ্ঠান এ প্রদর্শনীতে অংশ নেবে। এসব প্রতিষ্ঠান ফাইবার, সুতা, কাপড় ও মূল্য সংযোজিত টেক্সটাইল পণ্য প্রদর্শন করবে।
এছাড়া বেসিক কেমিক্যালস ও কসমেটিকস অ্যান্ড ডাইজ এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের (কেমেক্সসিল) সহযোগিতায় এবারের আয়োজনে ‘ইনডাইকেম’ নামে ডাই, কেমিক্যাল ও ফিনিশিং সল্যুশনের জন্য বিশেষ প্যাভিলিয়ন রাখা হয়েছে। এখানে টেকসই ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রাসায়নিক উদ্ভাবন এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হবে।
টেক্সপ্রসিলের নির্বাহী পরিচালক ড. সিদ্ধার্থ রাজাগোপাল বলেন, “ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়া আয়োজিত ঢাকার ইনটেক্স সাউথ এশিয়া শো আঞ্চলিক টেক্সটাইল অংশীদারিত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টেক্সপ্রসিল ও ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।”
ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়ার নির্বাহী পরিচালক আরতি ভগত বলেন, “বিশ্বের পোশাক উৎপাদন খাতে বাংলাদেশ এখন অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সোর্সিং যোগাযোগ ও শিল্পখাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে পেরে ইনটেক্স গর্বিত।”
তিন দিনের এ আয়োজনে প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিজনেস-টু-বিজনেস ম্যাচমেকিং সেশন, ইন্টারঅ্যাকটিভ বিজনেস ফোরাম এবং বিদেশি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ থাকবে। বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব ও নেটওয়ার্কিং জোরদার করতেই এসব আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রদর্শনীর ভেন্যু চারটি হলে ভাগ করা হবে। সেখানে আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল প্যাভিলিয়ন, ভারতের টেক্সটাইল কাউন্সিল প্যাভিলিয়ন, চায়না প্যাভিলিয়ন এবং প্রিমিয়াম ফাইবার ও সুতা প্রদর্শিত হবে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিজিসিসিআই), ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইউএসবিসিসিআই), কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি (সিআইটিআই) এবং তিরুপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ (টিইএ) বিভিন্ন শিল্পসংগঠন ও ব্যবসায়িক চেম্বার এ আয়োজনের সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
বিস্তারিত তথ্য ও আগাম নিবন্ধনের জন্য ভিজিট করা যাবে ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।
