নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নিয়োগ পাওয়া ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুস সালাম ব্যাপারী পদত্যাগ করেছেন। এর আগে তিনি ছিলেন একই সংস্থার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। এ পদে চাকরিকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
গতকাল রোববার দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব দপ্তরে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এরপর এটি গৃহীত হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা ওয়াসার জনতথ্য কর্মকর্তা ইমরুল হাসান বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে গণমাধ্যমকে বলেন, স্যার (আব্দুস স ালাম ব্যাপারী) পদত্যাগ করেছেন বলে তিনি একটু আগে শুনেছেন।
গত ৩ মার্চ আব্দুস সালাম ব্যাপারী পরিবারের কানাডায় বাড়ি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল দেশের শীর্ষ একটি গণমাধ্যম। কানাডার ‘বেগমপাড়ায়’ ঢাকা ওয়াসার এমডির স্ত্রীর নামে বাড়িøÑশিরোনামে অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাকে নিষেধ করা হয়। এ জন্য ঢাকা ওয়াসারই একটি অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকলেও সেখানে যেতে পারেননি তিনি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে বাড়িটি কেনা হয়। ২০২৩ সালে বাড়িটির মালিকানার অংশ থেকে আব্দুস সালামের নাম বাদ দিয়ে তার এক ছেলের নাম দেওয়া হয়। পরে পুরো মালিকানা স্থানান্তর করা হয় তার স্ত্রীর নামে। সেখানে তার স্ত্রীর নামে বাড়ির খোঁজ পাওয়া গেল।
বাড়িটি কানাডার টরন্টোতে। স্থানীয় ভূমি নিবন্ধন অফিস সার্ভিস অন্টারিও থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে বাড়িটি কেনা হয়। স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, বাড়িটির বর্তমান দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ কোটি টাকা। কেনার সময় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বাড়িটি কেনা হয় সিও বুইয়ং ও ইনসান ইয়াম নামে দুজন ব্যক্তির কাছ থেকে।
এদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
১৯৯১ সালে ঢাকা ওয়াসায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন আব্দুস সালাম ব্যাপারী। ঢাকা ওয়াসা সূত্র বলছে, চাকরিজীবনে বিভিন্ন পদে তিনি আড়াই কোটি টাকার মতো বেতন-ভাতা পেয়েছেন।
