নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের লোপাটকৃত প্রায় ৮৭ কোটি টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বিএসইসির কাছে পাঠানো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগকারী মো. আজিজার রহমান তার দুটি বিও হিসাব থেকে অনুমতি ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে লিখিত আবেদন করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে নির্দেশ দেয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
এ নির্দেশনার আলোকে বিএসইসি দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে বিনিয়োগকারী আজিজার রহমান উল্লেখ করেন, তার অজ্ঞাতসারে তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড জালিয়াতির মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। বিষয়টি প্রকাশ পেলে ডিএসই দুই দফায় আংশিক অর্থ ফেরত দিলেও এখনো তার প্রায় ৪৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজার রহমান বলেন, ‘চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আমার শেয়ার বিক্রির পুরো টাকা এখনো ফেরত পাইনি। বাধ্য হয়েই অর্থ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছি।’
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগকারীর অজান্তে শেয়ার বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা পুঁজিবাজারের আস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দুর্বল হবে। তারা বলছেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিএসইসি ও বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তামহা সিকিউরিটিজ অভিনব কায়দায় দুই শতাধিক বিনিয়োগকারীর প্রায় ৮৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও কর্মকর্তারা ডুপ্লিকেট ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করেন।
দুটি আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে একটিতে ভুয়া পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট দেখানো হতো এবং অন্যটিতে প্রকৃত লেনদেন আড়াল করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রাহকদের মোট ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকের সমন্বিত হিসাবে ঘাটতি ৯২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং শেয়ারের বাজারমূল্যের ঘাটতি ৪৭ কোটি ১১ লাখ টাকা।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএসইসি তামহা সিকিউরিটিজের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
এ ছাড়া গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
উল্লেখ্য, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড ২০০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত হয়।
