ম. জাভেদ ইকবাল : ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট। স্বাধীন স্বদেশভূমি পেতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সাহসী বীর ক্ষুদিরাম বসু হাসিমুখে ওঠেন ফাঁসির মঞ্চে। তার বয়স সেদিন মাত্র ১৮ বছর ৭ মাস ১১ দিন। ক্ষুদিরামের মৃত্যুতে লেখা গানের শেষ স্তবকে লোকশিল্পী পীতাম্বর দাস লেখেন, দশ মাস দশদিন পরে, জš§ নেব মাসির ঘরে। গানটি প্রতীকী হলেও, প্রকৃতপক্ষেই পৃথিবীর যেখানে শাসনের নামে স্বৈরাচারী অপশাসন আর বিচারের নামে প্রহসন চলে, সময়ের সাহসী সন্তান ক্ষুদিরামরা সেখানেই জš§ নেন। তার প্রমাণ বাঙালি জাতি বারবার দেখেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কিংবা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তার অকাট্য প্রমাণ। আবারক ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলনেও আমাদের লাখ লাখ সন্তান ক্ষুদিরাম হয়ে প্রতিবাদে-প্রতিরোধে আমাদের চোখের সামনেই রাস্তায় নেমেছে। রংপুরের আবু সাঈদ, খুলনার মুগ্ধ-সাকিব রায়হানের মতো হাজার তরুণ জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে প্রমাণ করেছে তারুণ্যের শক্তি অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ায় না। তারা যেমন দেশ রক্ষা করতে জানে, তেমনিভাবে দেশ গড়তেও তারুণ্যের অমিত শক্তি অপরিহার্য।
বাংলাদেশের ৬৩ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। এরাই পারে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে। দেশের এই বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করলে দেশ কখনোই পিছিয়ে থাকতে পারে না। আর ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ হলো দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দেশ গঠনমূলক উৎসব, যা যুব সমাজকে একত্র করা, তাদের উদ্ভাবনী শক্তি আবিষ্কার এবং দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রচারের জন্য এক আয়োজন। এই উৎসবে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, কর্মশালা এবং যুববিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম থাকছে। ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ সেøাগান নিয়ে এ উৎসব আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এর মূল লক্ষ্যই হলো তারুণ্যের শক্তি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
তারুণ্যের উৎসবের মূল ভাবনাই হলো, তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করা, তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার জন্য তাদের প্রস্তুত করা। এই উৎসবে তরুণদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়, যাতে তারা তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করতে পারে এবং সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হয়। এ উৎসব তরুণদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তারা নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করতে পারে, নতুন কিছু শিখতে পারে এবং অন্যদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে। ধারণা করা হয় উৎসবটি তরুণ সমাজের মধ্যে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে, তাদের আত্মবিশ্বাসের বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ। তবে উৎসবের মাধ্যমে তরুণরা কেবল নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তারা সমাজের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করবে। ফলে একটি বৃহত্তর সামাজিক ঐক্য এবং সংহতি গড়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।
উৎসবে সাধারণত তরুণ জনগোষ্ঠীর পছন্দমতো খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেমন- গান, নাচ, নাটক, এবং প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত আছে। এছাড়াও সেমিনার, কর্মশালা এবং যুববিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি এমনভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে উৎসবটি যুব সমাজের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে, যেখানে তারা নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে এবং দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য অনুপ্রাণিত হতে পারে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও তার অধীন দপ্তর ও সংস্থা, জেলা প্রশাসন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সম্মিলিতভাবে এই উৎসবকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানগুলোর আয়োজন করছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্র্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রণালয়, তথ্য ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, মাঠ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সংস্থা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ এর নতুন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বর্জ্য-শূন্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা তথা দেশীয় খেলাধুলাকে উৎসাহিত করতে বর্জ্য-শূন্য ক্রিকেট ম্যাচ ও অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। সামাজিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে থেকে বর্জ্য হ্রাস ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ‘তবৎড় ডধংঃব ঈযধসঢ়রড়হ’ সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ। খেলার স্থান বা স্টেডিয়াম পরিচ্ছন্ন রাখা ও স্থানীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং একই সঙ্গে বর্জ্য-শূন্যতার প্রচার। আয়োজনে অংশ হিসেবে থাকছে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে আহত যুবদের সার্বিক সহযোগিতা, অসমর্থ ও আহত যুবদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। যুবসংগঠন ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে যুব সমাবেশ আয়োজন করা এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও কল্যাণ তহবিল হতে সহায়তা প্রদান। পাশাপাশি ক্রীড়াসেবীদের চিকিৎসা সহায়তা এবং অসমর্থ ক্রীড়াসেবীদের জন্য ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা। জুলাই আন্দোলনের স্পৃহাকে তরুণদের মধ্যে জাগ্রত রাখতে বিপ্লবের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষার্থে চিত্র প্রদর্শনী, স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ এবং মোবাইল ডাটা প্যাকেজ ঘোষণা হয়েছে। তরুণ প্রজš§কে আগামীর সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অর্থনৈতিকভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টিও এর একটি উদ্দেশ্য। আবার বিদ্যমান উদ্যোক্তাদের স্থানীয় শিল্প ও পণ্য প্রদর্শনী এবং উদ্যোক্তা সম্মেলনের মাধ্যমে যুব উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করাও তারুণ্যের উৎসবের একটি অনন্য দিক। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্ভাবন ও প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কুইজ, রচনা, বিতর্ক, স্কিল কম্পিটিশন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। তরুণদের নিয়ে ণড়ঁঃয ঋবংঃ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা উৎসব এবং দেশীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রচার বিষয়টি নান্দনিকভাবে থাকছে উৎসবের অংশ হয়ে। তরুণ জনগোষ্ঠী অসাধারণ মানুষকে উৎসবের ঐক্যতানে নিয়ে আসতে টেকসই ফ্যান এনগেজমেন্ট ও ৩৬০ ডিগ্রি প্রচার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। আবার উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে কিশোর-কিশোরীদের জন্য পুষ্টিবিষয়ক কর্মশালা, নিউট্রিশন অলিম্পিয়াড এবং আন্তঃস্কুল-কলেজ প্রতিযোগিতা এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যুবদের ভাবনাবিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজন করা হবে। তরুণরাই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছে। তাই জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে যুব-জনতার সাহসী, উদ্ভাবনী ও জনমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি দিতে ডেমোক্রেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের তত্ত্বাবধানেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।
তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৯টি সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শিগগিরই আয়োজন হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতা ২০২৫’। প্রতিযোগিতা ২০২৫ এর প্রতিপাদ্য ‘বাংলাদেশ ২.০: তারুণ্যের নেতৃত্বে আগামীর পথে’। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের ধারণাপত্র জমা দেবে এবং নির্বাচিত দলগুলো পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র প্রস্তুত ও উপস্থাপন করবে। বিজয়ীরা পুরস্কৃত হওয়ার পাশাপাশি তাদের নীতি প্রস্তাবগুলো সরকারিভাবে পলিসি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। নীতি প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো হলো- রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ; জুলাই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: জাতীয় স্বার্থ ও বৈদেশিক সম্পর্কের পুনঃসংজ্ঞায়ন; নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ: শিক্ষা ও দক্ষতার রূপান্তর; দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাংস্কৃতিক সংযোগ: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশি তরুণদের ভূমিকা; গুজব প্রতিরোধে বাংলাদেশের করণীয় ও বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি; জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও সাংবিধানিক পুনর্গঠন: তরুণদের আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ; বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ: সম্ভাবনার ব্যবহার ও নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা প্রস্তুতি; সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের পথে: ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ; চতুর্থ শিল্পবিপ্লব: বাংলাদেশের উদ্বোধনী সম্ভাবনা ও প্রয়োগের ক্ষেত্র; কৃষি, নদী উন্নয়নের গতিপথ: বঙ্গীয় ব-দ্বীপের পুনরাবিষ্কার। আশা করা যায়, বিষয়গুলোর ওপর তরুণরা তাদের বাস্তবমুখী প্রস্তাবনা জমা দেবে এবং এই প্রস্তাবগুলো থেকেই আগামীর বাংলাদেশের পথ চলার নীতি নির্ধারণী অনেক দিকনির্দেশনার খোঁজ মিলবে। আমাদের এটি মনে রাখা উচিত যে, রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী বিষয়সহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে তারুণ্যের অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আমাদের কাক্সিক্ষত দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নীতিগতভাবে অগ্রসর হওয়া। তরুণদের চিন্তা প্রক্রিয়া, মননশীলতা এবং গবেষণাধর্মী সক্ষমতাকে সামনে রেখে এক নতুন পরিবর্তনের সূচনা করা সম্ভব আর সেটি হতে হবে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তারুণ্যের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বছর ৮ আগস্ট দেশে ফিরে জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘যে বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজকে নতুন বিজয় দিবস সৃষ্টি করল, সেটা সামনে রেখে এবং আরও মজবুত করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যারা এটা সম্ভব করেছে, যে তরুণ সমাজ, তাদের প্রতি আমি আমার সব প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা আমার পাশে আছে। এরা এ দেশকে রক্ষা করেছে। এ দেশকে নতুনভাবে পুনর্জš§ দিয়েছে এবং এই পুনর্জšে§ যে বাংলাদেশ পেলাম, সেই বাংলাদেশ যেন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলতে পারে, সেটাই হলো আমাদের শপথ, সেটাই আমরা রক্ষা করতে চাই, এগিয়ে নিতে চাই।’ তিনি আরও বলেন ‘তোমাদের দেখে সারা দুনিয়া শিখবে যে একটা দেশ কীভাবে তরুণ সমাজ নিগ্রহ করতে পারে, তাকে পাল্টে ফেলতে পারে। তাদের আমি এমনই উপদেশ দিই যে পুরাতনকে বাদ দাও, পুরোনো চিন্তা দিয়ে মুক্তি হবে না আমাদের। পুরো দুনিয়াতেই এটা। এটা শুধু বাংলাদেশের কথা না। তোমাদের মধ্যে যে শক্তি আছে, যে সৃজনশীলতা আছে, সেই সৃজনশীলতাও কাজে লাগাতে হবে। এটা শুধু বই-খাতায় লেখার জিনিস না। এটা প্রকাশ করার জিনিস, স্থাপন করার জিনিস।’ ক্স ‘বাংলাদেশ একটা খুব সুন্দর দেশ হতে পারে। এটা খুবই সম্ভাবনাময় দেশ। এই সম্ভাবনাকে আমরা নষ্ট করে দিচ্ছে। এখন আবার সেই বীজতলা তৈরি করতে হবে। আবার আমাদের জেগে উঠতে হবে। ছাত্ররা এই বীজতলা তৈরি করবে। তাদের হাত দিয়েই হবে এবং তাদের দিকেই আমরা তাকাব।’ তরুণদের দিকে ইঙ্গিত করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নিজেকে প্রশ্ন করুন, আমি বিশ্বের জন্য কী করতে পারি? একবার আপনি কী করতে চান, তা বুঝতে পারলে আপনি তা করতে পারবেন, কারণ আপনার সেই ক্ষমতা রয়েছে।’ ক্স ‘বিশ্বের তরুণ প্রজš§ এখন সমগ্র মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজš§। তারা যথেষ্ট স্মার্ট হওয়ার কারণে নয়, বরং তাদের হাতে প্রচুর প্রযুক্তি রয়েছে বলে।’
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই তরুণ। এতেই বোঝা যায় আমরা সীমাহীন মানব শক্তি, সৃজনশীলতা ও উদ্যোগে ভরা এক দেশে পরিণত হয়েছি। এ জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা। ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠীর পতনে নেতৃত্ব দেয়া তরুণরাই উৎসবের মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং দেশপ্রেমের মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যাবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তারুণ্যের উৎসবই প্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে-এটাই সবার প্রত্যাশা।
পিআইডি নিবন্ধ

Discussion about this post