নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় তিনটি বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম তদন্ত করতে নেমেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এজন্য পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, একটি মার্চেন্ট ব্যাংকসহ মোট চারটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলেও প্রাথমিকভাবে তিনটি ব্রোকারেজ হাউসের বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑগ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
এ বিষয়ে কমিশন সম্প্রতি পৃথক আদেশ জারি করেছে। ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯’ এবং ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩’ অনুযায়ী, প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রতিটি তদন্ত কমিটিতে দুজন করে কর্মকর্তা রাখা হয়েছে।
গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজের তদন্তে দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক উম্মে সালমা ও সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান। প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজের তদন্ত করবেন অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওহিদুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক মো. মারুফ হাসান। আর এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের তদন্ত পরিচালনা করবেন উপ-পরিচালক মো. রফিকুন্নবী এবং সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সাদেকুর রহমান ভূঁইয়া।
জানা গেছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার নামে পরিচালনা পর্ষদে যাদের বসানো হয়েছিল, তারাই এখন নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আবুল বশর এনআরবিসি ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই বোর্ডের চেয়ারম্যান ও এমডির অনৈতিক কাজের সুযোগ নেওয়া শুরু করেন। এনআরবিসি ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এনআরবিসি সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যানের পদ বাগিয়ে নেন আবুল বশর। সিকিউরিটিজ থেকে প্রতি মাসে গাড়ির অ্যালাউন্স হিসেবে নিচ্ছেন এক লাখ টাকা। এছাড়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা আবুল বশর ঢাকায় এলেই পরিবার নিয়ে ব্যাংকের টাকায় থাকছেন পাঁচ তারকা হোটেলে। এছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালকরা নানা অজুহাতে ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ভাতার নামে অর্থ নিচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহে বোর্ড মিটিং করে আগের ১০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৩০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা নিয়েছেন। বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লে ভাতা কমিয়ে আবার আগেরটাই নির্ধারণ করা হয়।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেগেটিভ ইকুইটি, মার্জিন ঋণ বিতরণের নীতিমালা, আর্থিক প্রতিবেদন এবং করপোরেট সুশাসনে কোনো ধরনের অসংগতি রয়েছে কি না তা তদন্তে যাচাই করা হবে।
তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post