Print Date & Time : 13 May 2026 Wednesday 10:27 pm

তিন সপ্তাহ পর চালুর পথে ইস্টার্ন রিফাইনারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) মূল প্ল্যান্ট পুনরায় চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েল ইতোমধ্যে রিফাইনারির ট্যাংকে পৌঁছেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার রাত অথবা শুক্রবার সকালেই চালু হতে পারে প্ল্যান্টটি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত এ তথ্য জানান।

এর আগে বুধবার দুপুরে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড বহনকারী ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’ কুতুবদিয়া অ্যাংকরে নোঙর করে। পরে রাত ১০টার দিকে ছয়টি লাইটার জাহাজের মাধ্যমে ক্রুড খালাস কার্যক্রম শুরু হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ক্রুড অয়েলের সরবরাহ সংকটে পড়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি। এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু থাকলেও গত ১৪ এপ্রিল থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন কার্যক্রম।

দৈনিক প্রায় ৪ হাজার টন ডিজেল উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সর্বশেষ তেলের চালান আসে ফেব্রুয়ারিতে। এরপর ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় মার্চ থেকে তেল আমদানিতে জটিলতা বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে ইস্টার্ন রিফাইনারি।

ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি জাহাজ ফুজাইরা বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ এখন বিকল্প রুট হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর ও সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এ পথ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।