আরিফুল ইসলাম সাব্বির, সাভার
থুতু ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে সাভারে ড্যাফোডিল ও সিটি ইউনিভার্সিটির দুজন শিক্ষার্থীর মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে রোবিবার রাত ১০টার পর থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ড্যাফোডিলের অসংখ্য শিক্ষার্থী সিটি ইউনিভার্সিটিতে হামলা চালায়। তারা ইউনিভার্সিটির প্রধান ফটক ভাঙচুর করে। সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করেছে। এছাড়া ১৩টির মতো গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেছেন, ঘটনার সূত্রপাত খুবই সামান্য বিষয় নিয়ে, থু থু ফেলাকে কেন্দ্র করে। ড্যাফোডিলের একজন শিক্ষার্থীর গায়ে এসে থুথু লাগে। এ নিয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়, সেখানেই সেটি শেষ হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ব্যাচেলর প্যারাডাইজে একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ হয়। সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা আক্রমণ করে।
তিনি বলেন, ব্যক্তি পর্যায়ের বিষয় সামষ্টিক পর্যায়ে চলে গেছে। এরপর থেকে দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। যেহেতু আমাদের এখানে হল আছে, অনেক ছাত্রছাত্রী, সংখ্যায় বেশি, তারা সিটি ইউনিভার্সিটির সেদিকে গিয়ে যা করার সেটি করেছে এবং সিটি ইউনিভার্সিটি যেহেতু রাস্তার উপরে সেখানে সেটি একটা মবের আকার ধারণ করেছে এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ওখানকার লোকজন যারা জড়িত ছিল, সেটি বের করাও একটি কঠিন কাজ যে কারা কিভাবে করল; কারণ ওটাতো একেবারেই প্রধান সড়কের সঙ্গে, কাজেই সেই জায়গাটিতে আমরা এখনও অসহায়।
এ ঘটনায় কারা দায়ী তা খুঁজে বের করতে সিসি টিভির ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হবে বলে জানান মিজানুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু সেই সহযোগিতার পরিবর্তে এখন যেটি হয়েছে যে তারা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে রেখেছে। কেউ বলছে ৯ জন, কেউ বলছে ১০ জন। আর আমরা তো জানিও না, কেউ তো আর দায় স্বীকার করেনি যে, আমরা ১০ জনকে আটকে রেখেছি। কিন্তু তিনজন শিক্ষার্থীকে সিটি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। সেখান থেকে আমরা বুঝতে পারছি যারাই জিম্মি করে রেখেছে, তারাই চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে এবং রেখেছে মানে ব্যাপারটা গুরুতর।
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক বলেন, তারা যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে সেই জন্যে আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ আমাদের কাছে মানুষটাই এখন প্রধান, শিক্ষার্থীরাই প্রধান। সেটি ড্যাফোডিলের হোক কিংবা সিটির, সবাই আমাদের সন্তান। তাদের আমাদের বাঁচাতে হবে তাদের যেকোনো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, সমস্যা হচ্ছে এখনও কিছু শিক্ষার্থী জিম্মি আছে, তো সেইটা যদি ট্রিগার করে বসে এই বিশাল ছাত্রসমাজকে এই খানে তাহলে কিন্তু সেই দায়িত্ব আমরা নিতে পারব না, সেটি সিটি ইউনিভার্সিটিকেই নিতে হবে। ছাত্র আটকে কোনো সমাধানের আলোচনা হওয়া সম্ভব না এবং আমাদের ভাইস চ্যান্সেলর উনাদের ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে কথা বলেছেন, আমি নিজে উনাদের প্রো ভিসির সঙ্গে কথা বলেছি যেসব হবে। আমরা আমাদের অভিভাবক ইউজিসিকে জানিয়েছি যে এসে বিচার করেন। কিন্তু যেই বিচারই করা হোক না কেন প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে যেই শিক্ষার্থীরা জিম্মি রয়েছে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। কারণ যেহেতু তিনজনের চিকিৎসা হয়েছে, অন্যদের অবস্থা হয়তো আরও খারাপ হতে পারে আমরা তো জানি না।
তিনি আরও বলেন, তো সেই জায়গা থেকে আমি সিটি ইউনিভার্সিটির সুমতি কামনা করি, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে এবং তাদের শিক্ষার্থীদেরও আমি বলবো আপনাদেরই ভাই, আপনাদেরই বন্ধু, কাজেই সেই জায়গা থেকে আমরা যেন মানবিকভাবে দেখি।
তিনি বলেন, এর পরে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা, বোঝা সেগুলোতো আছেই। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের অনুরোধ এটিকে ফুলিয়ে ফাপিয়ে আমরা আর যেন বড় না করি।
এদিকে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের হামলায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির কনফারেন্স কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান তিনি।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, সিটি ইউনিভার্সিটিতে হামলা করতে আসা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষার্থীকে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা আটকে রেখেছিল তারা অসুস্থ হওয়ায় পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আরও ১১ জনকে আটকে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য স্বশরীরে ক্ষতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে এবং তার কাছেই ১১ জনকে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, হামলাকারী শিক্ষার্থীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের অফিস রুমে প্রবেশ করে ভিসি, প্রোভিসি, রেজিস্ট্রারসহ অফিসের সব কম্পিউটার ভাঙচুর করে। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লুট করেছে। রাত সাড়ে ৪টার দিকে ক্যাম্পাসে এসে হতভম্ব হয়ে যাই। শিক্ষার্থীদের দ্বারা
এমন কাজ কীভাবে সম্ভব। এরপর ড্যাফোডিলের উপাচার্যকে বিষয়টি
জানিয়ে একজন প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। হামলায় আমাদের ২৫ থেকে ২৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরও প্রায় শতাধিক আহত হয়েছেন। তারা শিক্ষার্থীসুলভ আচরণ করেনি। যাদের ধরা হয়েছে তারা যখন ভাঙচুর চালাচ্ছিল তখন তাদের ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ল্যাপটপ, কম্পিউটার, এসিÑ এগুলো চুরি করতে পারে? আমরা চাই ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করতে। সমাধান না হলে আইনের আশ্রয় নেব। ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। ইউজিসি থেকে প্রতিনিধিদল আসছে বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য।
তিনি বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোমবারের জন্য সব ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সিন্ডিকেট সভা পরে ক্লাস পরীক্ষার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
