Print Date & Time : 30 April 2026 Thursday 4:01 am

থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামে জ্বালানি সংকটে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘরে বসে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো যায়। খবর: রয়টার্স।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সরকারি কর্মচারীদের জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে বিদেশ সফর স্থগিত করা, লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি দপ্তরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে বলা হয়েছে এবং স্যুট-টাইয়ের পরিবর্তে হালকা পোশাক পরতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের বড় অংশকে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, তবে জনসেবা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ নির্দেশনার বাইরে থাকবেন। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৯৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। বাড়তি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ করছে থাইল্যান্ড।

এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে ভিয়েতনামেও জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে। গত মাসের শেষ থেকে দেশটিতে পেট্রোলের দাম প্রায় ৩২ শতাংশ, ডিজেলের দাম ৫৬ শতাংশ এবং কেরোসিনের দাম ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। রাজধানী হ্যানয়ে অনেক পেট্রোল পাম্পে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারিও দেখা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে ভিয়েতনামের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কর্মীদের সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে যাতায়াত কমে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি সরকার জ্বালানি মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।

জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়া এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত জ্বালানি আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

এদিকে ইরানের জ্বালানি ডিপো ও তেল শোধনাগারে ইসরায়েল হামলা চালানোর পর তেহরানের আশপাশে ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল মেঘ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ইসরায়েলের দাবি, তারা গত ৭ মার্চ রাতে ইরানের কয়েকটি জ্বালানি ডিপো ও শোধনাগার লক্ষ করে হামলা চালায়। এরপর এসব স্থাপনা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘বড় আকারের এই হামলা সংঘাতকে একটি নতুন বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে এবং এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল।’

তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লিখেছেন, ‘জ্বালানি ডিপো লক্ষ করে হামলা চালিয়ে আগ্রাসীরা বাতাসে বিপজ্জনক ও বিষাক্ত পদার্থ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে বেসামরিক মানুষ বিষাক্ত বাতাসে আক্রান্ত হচ্ছে, পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ব্যাপকভাবে মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে।’

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব ডিপো ইরানের যুদ্ধ কার্যক্রমে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহƒত হচ্ছিল। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য প্রপেল্যান্ট উৎপাদন বা সংরক্ষণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।’

পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগও সতর্ক করে জানিয়েছে, বাতাসের মাধ্যমে দূষিত কণাগুলো সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বায়ুমণ্ডলে পানির সঙ্গে মিশে তেলের আগুন থেকে তৈরি দূষিত কণাগুলো অম্লীয় বৃষ্টিতে (অ্যাসিড রেইন) পরিণত হয়ে আবার মাটিতে নেমে আসতে পারে।

এই বিষাক্ত কণাগুলো শ্বাসনালিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে অ্যাজমা বা ব্রঙ্কাইটিসে যারা আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে। এ ছাড়া ত্বকে রাসায়নিক পোড়া বা ফুসফুসের গুরুতর ক্ষতিও হতে পারে।