নিজস্ব প্রতিবেদক: রয়্যালটি, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফি এবং আউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স অনুমোদন সেবা পুরোপুরি অনলাইনে চালু করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চালু হওয়া এই সেবায় অনুমোদন পেতে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
আগে এসব সেবা পেতে যেখানে দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগত, এখন তা মাত্র ৭ থেকে ১০ কার্যদিবসেই সম্পন্ন হচ্ছে। এতে সেবা গ্রহণের সময় কমেছে প্রায় ৮৩ শতাংশ এবং কাজের গতি বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে রয়্যালটি সেবাটি পূর্ণাঙ্গভাবে অনলাইনে চালু করা হয়। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা বিডার ওএসএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজে আবেদন করতে পারছেন। এতে সময় ও কাগজপত্রের ঝামেলা কমার পাশাপাশি সেবার স্বচ্ছতাও বেড়েছে।
বিডা জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা সম্পন্ন করায় গত এপ্রিল মাসেই ওএসএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চারটি রয়্যালটি পেমেন্ট অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ডিজিটাল ব্যবস্থার আগে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার সহায়ক নথি ম্যানুয়ালি জমা দিতে হতো। এসব নথি যাচাই, সারসংক্ষেপ প্রস্তুত, অভ্যন্তরীণ নোটিং ও চূড়ান্ত অনুমোদন সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লাগত। এখন ওএসএস পোর্টালে কাঠামোবদ্ধ ডিজিটাল ইনপুট ও হাইলাইট ব্যবস্থা চালু হওয়ায় যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত ও সহজ হয়েছে।
এ ছাড়া বিনিয়োগকারীরা এখন অনলাইনে নিজেদের আবেদন ট্র্যাক করতে পারছেন। একই সঙ্গে রয়্যালটি সেবার ফি পরিশোধ ব্যবস্থাও পুরোপুরি অনলাইনে আনা হয়েছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সময়মতো, সহজ ও সুশৃঙ্খল ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগ সেবা দেওয়া জরুরি। রয়্যালটি সেবা পুরোপুরি ডিজিটাল করায় সেবার গতি ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও কাঠামোবদ্ধ ও মানসম্মত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, এর ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ ও কার্যকর সেবা পাবেন।
বিডা ওএসএস প্ল্যাটফর্মে রয়্যালটি পেমেন্ট সহজীকরণ কার্যক্রমে ট্রান্সফরমেটিভ ইকোনমিক পলিসি প্রোগ্রামের (টিইপিপি) আওতায় কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ইউএনডিপি বাংলাদেশ। বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বিজনেস অটোমেশন লিমিটেড।
বর্তমানে বিডার ওএসএস পোর্টালের মাধ্যমে ৪৭টি সংস্থার ১৪২টির বেশি বিনিয়োগ সেবা এক জায়গা থেকে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে বিডার নিজস্ব ৪০টি সেবাও রয়েছে।
