নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সরাসরি টাকা দিয়ে শক্তিশালী করার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে অনিরাপদ তারল্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি বিনিময় হার সংস্কার পুরোপুরি ও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য আর্টিকেল ফোর পরামর্শ কার্যক্রম শেষে শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায় আইএমএফ। সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় সংস্কার অগ্রগতির মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই এই মন্তব্য করে সংস্থাটি।
আইএমএফ বলেছে, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত ব্যাংক সংস্কার কৌশল প্রয়োজন। এতে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি নিরূপণ, সম্ভাব্য রাজস্ব সহায়তার কাঠামো এবং আইনগতভাবে শক্তিশালী পুনর্গঠন ও সমাধান পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সম্পদের মান যাচাই (এএকিউআর), ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং ব্যালান্স শিটের স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দাতা সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতির সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি। বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করতে সংস্কার পুরোপুরি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুর্বল ব্যাংকে তারল্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
আইএমএফের মতে, মূল্যস্ফীতি স্পষ্টভাবে নিম্নমুখী না হওয়া পর্যন্ত মুদ্রানীতি কঠোর রাখা উচিত। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে দুই অঙ্কে থাকা মূল্যস্ফীতি অক্টোবরে নেমে ৮ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি গড়ে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ থাকতে পারে এবং ২০২৭ অর্থবছরে তা কমে প্রায় ছয় শতাংশে নামবে।
দুর্বল রাজস্ব আহরণ ও ব্যাংক খাতের ঝুঁকির কারণে অর্থনীতি ক্রমেই বাড়তি সামষ্টিক আর্থিক চাপে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছে আইএমএফ। সময়মতো সাহসী রাজস্ব ও আর্থিক সংস্কার না হলে বড় ধরনের নিম্নমুখী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। মধ্যমেয়াদে অর্থনীতি ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রবৃদ্ধি প্রায় ছয় শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজস্ব স্থিতিশীলতা রক্ষা, সামষ্টিক-আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার, সুশাসন উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির বৈচিত্র্য বাড়াতে বিস্তৃত কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ। একই সঙ্গে ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি আর্থিক ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post