Print Date & Time : 19 April 2026 Sunday 2:36 am

ধাপে ধাপে ক্ষতিপূরণ পাবেন একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা: অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: একীভূত করা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ধাপে ধাপে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া হবে—সে বিষয়ে একটি কার্যকর মডেল তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগবে এবং তা হিসাব-নিকাশ করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার সময় ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বলেছিলাম—এটা কনসিডার করা হবে। গভর্নরও তার মতো করে বিষয়টি বলেছেন। তবে আমরা প্রথমেই বলেছি, ডিপোজিটরদের অর্থ অবশ্যই সুরক্ষিত থাকবে। ৪২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে মূলত সেই কারণেই। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো শেয়ারহোল্ডার।’

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) নেতিবাচক হয়ে যাওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া একটি কারিগরি ও জটিল বিষয়। ‘টেকনিক্যাল দিক থেকে অনেকে বলেন—ওরা নিজের ঝুঁকিতে শেয়ার কিনেছে, তাহলে সরকার কেন দেবে? কিন্তু আমি বলেছি, অনেকেই বাজারের সিগন্যাল দেখে শেয়ার কিনেছেন। তাই দেখা যাক, কতটুকু কী করা যায়।’

ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে উল্লেখ করে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা যখন নেতিবাচক হয়ে যায়, তখন পুরো দায় একতরফাভাবে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও যৌক্তিক নয়। এ বিষয়ে পরবর্তী অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তার মডেল তৈরি করতে সময় লাগবে। ধরুন, কেউ অনেক টাকার শেয়ার কিনেছেন—তাকে আংশিক শেয়ার দেওয়া হতে পারে, আবার বাকি অংশ নগদ বা অন্যভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে। সবকিছু হিসাব করে করতে হবে। কারণ পুরো বোঝা শেয়ারহোল্ডারদের একা বহন করা সম্ভব নয়।’

ব্যাংক খাত সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এককালীন সিদ্ধান্তে এই খাতের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী না করলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরই থেকে যাবে। ইকুইটি পার্টিসিপেশন ও বন্ড মার্কেট ছাড়া টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। চলমান উদ্যোগগুলো পরবর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিলে ব্যাংক খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।