Print Date & Time : 18 April 2026 Saturday 2:55 pm

নগরাঞ্চলে টেকসই উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের নগরাঞ্চলের টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব নগরাঞ্চলের উন্নয়নে সরকার নানা ধরনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। খবর: বাসস।

‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৫ (৬ অক্টোবর)’ উপলক্ষে গতকাল রোববার দেয়া বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৫’ উদ্যাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ বছর দিবসটির জাতিসংঘ-নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘পরিকল্পিত উন্নয়নের ধারা, নগর সমস্যায় সাড়া’ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম নগরায়িত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে নাগরিক জীবনযাত্রায় এ নগরায়নের কাক্সিক্ষত সুফল দেখা যাচ্ছে না। একদিকে যেমন রাজধানীকেন্দ্রিক অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভারসাম্যহীন উন্নয়ন হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের অন্যান্য নগর এলাকার যথাযথ বিকাশ ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানীকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংকট ক্রমাগত নাগরিক জীবনকে সমস্যাগ্রস্ত করছে। এসব সংকট মোকাবিলায় দ্রুত, স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন জরুরি, যা এ বছরের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্যের সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট।

তিনি বলেন, নগর সংকট মোকাবিলায় দ্রুততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নানা ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা একটি সম্ভাবনাময় নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে চলেছি। এরই ধারাবাহিকতায় অচিরেই নগর সমস্যার টেকসই ও পরিবেশবান্ধব সমাধান এবং দেশের সব নগরাঞ্চলের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশের নগরাঞ্চলের সংকট মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারী, কমিউনিটি গ্রুপ, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সহযোগীসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সবার যৌথ ও সচেতন অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই আমাদের জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো নগরজীবনের অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে গৃহীত সব কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন। বাসস।