নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেছেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদন কেবল গ্রহণ করা হয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একটি পে-কমিশন গঠনের দাবি ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় একটি স্বাধীন পে-কমিশন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সীমিত হওয়ায় এই সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সুপারিশগুলো যাচাই–বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে মতামত দেবে।
পরবর্তী সরকার চাইলে কি এ সুপারিশ বাতিল করতে পারবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সরকার সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত থাকবে। তারা চাইলে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, যেমনভাবে এই সরকার তার এখতিয়ারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’
পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এই অঙ্কটি তখনই প্রযোজ্য হবে, যদি সুপারিশগুলো হুবহু এবং একই সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়। বাস্তবে সাধারণত পে-কমিশনের সুপারিশ একযোগে নয়, বরং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হয়। আমি নিজে সরকারি কর্মকর্তা ছিলাম। বাস্তবতা হলো—পে-কমিশনের সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হয়। অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কমিটি খতিয়ে দেখবে।’
এ ধরনের সুপারিশ রেখে যাওয়ায় পরবর্তী সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি সীমিত সময়ের জন্য দায়িত্বে রয়েছে। তবে তারা এমন উদ্যোগ নিতে চায়, যাতে ভবিষ্যৎ সরকার উপকৃত হয় এবং তাদের যাত্রাপথ মসৃণ হয়। পে-কমিশন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। বিক্ষোভসহ নানা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা চাই না, নতুন সরকার এসে এমন কোনো অচল অবস্থার মুখোমুখি হোক—যেই সরকারই ক্ষমতায় আসুক।’
সুপারিশ গ্রহণ না করে বিষয়টি পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে দেওয়া যেত কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা কোনো সুপারিশ গ্রহণ করিনি। শুধু প্রতিবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সুপারিশগুলো পরীক্ষা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
