বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬
২৩ পৌষ ১৪৩২ | ১৮ রজব ১৪৪৭
  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শেয়ার বিজ
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
➔ ই-পেপার
No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
No Result
View All Result
শেয়ার বিজ
No Result
View All Result

নতুন বছরে অর্থনীতি : হতাশার বিপরীতে আশার আলো 

Share Biz News Share Biz News
সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬.১২:০১ পূর্বাহ্ণ
বিভাগ - পত্রিকা, সম্পাদকীয় ➔ প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
A A
26
VIEWS
Share on FacebookShare on TwitterShare on Linkedin

রেজাউল  করিম খোকন : অনেক প্রত্যাশার ডালি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বছর ২০২৬। সবার প্রত্যাশা নতুন বছরটি সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক—ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে। কিন্তু বছরের শুরুতেই সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছে। ছয় মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমানো হয়েছে। এর ফলে বিদায়ী বছরের তুলনায় চলতি বছরে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতি মাসে মুনাফা কমবে ১১০ টাকা। গতবছর পরিবার সঞ্চয়পত্রে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে পাওয়া যেত ৯৪৪ টাকা। নতুন বছরের চলতি মাস থেকে বিনিয়োগ করলে পাওয়া যাবে ৮৩৪ টাকা। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ওপর দারুণ একটা চাপ পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার ঘোষণা করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার হবে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত জুলাই মাসেও মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। এখন ছয় মাস পর আবারও কমানো হলো। প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হয়। দেখা যাচ্ছে, কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কম। এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ পরিমাণ বা এর কম হলে মুনাফার হার বেশি হবে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে আসবে। আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সরকার নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করে থাকে।দেশে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন যত ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্র। এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৫ তারিখের আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ইস্যুকালীন মেয়াদে ওই সময়ের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুনর্বিনিয়োগের তারিখের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে।

ছয় মাস পর মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এদিকে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক মূলত দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। বিপদের সময় সঞ্চয়পত্র ভেঙে তা সামাল দেন। আবার প্রতি মাসের সংসার খরচের একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আসে। জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। যদিও কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা ৮-৯ শতাংশের ঘরেই আছে। ফলে সামগ্রিকভাবে নতুন বছরের শুরু থেকে মধ্যবিত্তের ওপর চাপ আরও বাড়ল। বিশেষ করে যাদের পারিবারিক খরচের বড় একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আসে, তারা আরও চাপে পড়বেন।

একীভূত হওয়ার পর পাঁচ ব্যাংকের সাইনবোর্ড বদলে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি আগের সাইনবোর্ডও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন বছরের প্রথমদিন থেকেই পাঁচ ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেনও শুরু হয়েছে। ব্যাংক পাঁচটির গ্রাহকেরা এখন তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারছেন। আগের ব্যাংকের চেক দিয়েই এসব লেনদেন করার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বছরের প্রথমদিনে  পাঁচ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ একাধিক শাখায়  একীভূত হওয়া ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ এর সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে। এখন আগের ব্যাংকের পাশাপাশি নতুন ব্যাংকের সাইনবোর্ড থাকবে। ধীরে ধীরে পুরোনো সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হবে। তখন শুধু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামেই পরিচিতি পাবে এই পাঁচ ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখায় চলতি সঞ্চয়ী হিসাবে যাদের টাকা জমা আছে ও যারা নতুন করে জমা করবেন, তারা বাজারভিত্তিক হারে মুনাফা পাবেন।

ভবিষ্যতে ব্যাংক পাঁচটি শুধু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামে পরিচিতি পাবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের মধ্যে যে একটা অস্বস্তি, অসন্তোষ, অনিশ্চয়তা বাসা বেঁধেছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে বলা যায়। তবে তাদের মধ্যে যাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আমানত হিসেবে সঞ্চিত রয়েছে তাদের টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। এটা তাদের ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা ও প্রসারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা হিসেবে বিবেচিত হবে নিঃসন্দেহে। সরকারি সিদ্ধান্তে বেসরকারি যে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠিত হচ্ছে, সেগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এই পাঁচ ব্যাংকের দায়, সম্পদ ও জনবল অধিগ্রহণ করছে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। একীভূত প্রক্রিয়া শেষে ধীরে ধীরে পাঁচ ব্যাংক বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন ব্যাংক গঠনের বিস্তারিত স্কিম বা কর্মসূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে নতুন ব্যাংকের মূলধন ও পাঁচ ব্যাংকে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ভবিষ্যৎ স্পষ্ট করা হয়েছে।

সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি মার্কিন ডলার। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয়ের রেকর্ড ছিল গতবছরের মার্চে। তখন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে বেশি আয় এসেছিল। তাতে ওই রেকর্ড হয়। এরপর গত ডিসেম্বরে একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় আসা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের পুরো বছরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় সমান আয় এসেছে এক বছরে। সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসে সব মিলিয়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি ডলার। এর আগে নভেম্বরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল প্রায় ২৮৯ কোটি ডলার। সেই হিসাবে নভেম্বরের চেয়ে ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় ৩৩ কোটি ডলার বেড়েছে। এদিকে বিগত বছরজুড়েই প্রবাসী আয়ের গতি ছিল বেশ ভালো। এতে ডলারের তেমন কোনো সংকট ছিল না ব্যাংক খাতে। ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বছরজুড়েই বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বেড়েছে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বছর শেষে তা ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সাল শেষে মোট রিজার্ভ যেখানে উন্নীত হয়েছে, তা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় মোট রিজার্ভ কমে নেমেছিল ২৬ বিলিয়ন ডলারে। এতে ওই সময় দেশে চরম আকার ধারণ করেছিল ডলার-সংকট। ব্যাংক খাতে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সংকট কেটে যাওয়ায় এখন ডলারের দাম কমে ১২২ টাকায় নেমেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। এতে গত বছরের মার্চে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড হয়। ওই মাসে ৩২৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল, যা এখন পর্যন্ত একক কোনো মাসে দেশে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এরপর গত মাসে তা আবারও ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও কমে গেছে। এ ছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার বেশ কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। এতে বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসা বেড়েছে।

ব্যাংক খাতে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার কিনে চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে রিজার্ভ বেড়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী ওই দিন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলারে। শেয়ারবাজারে নতুন বছরটি শুরু হয়েছে সূচক ও লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখী ধারায়। বছরের প্রথমদিনে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন শুরু হয় সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে। এদিন লেনদেন শুরুর প্রথম আড়াই ঘণ্টায় অর্থাৎ বেলা ১টায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৬ পয়েন্ট বেড়েছে।

গত বছরটি শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য ছিল মন্দার বছর। বছরের বেশিরভাগ সময় শেয়ারবাজার দরপতনের ধারায় ছিল। গতবছরের জানুয়ারির প্রথমদিনে ডিএসইএক্স সূচকটি ছিল ৫ হাজার ২১৮ পয়েন্টের অবস্থানে। সেখান থেকে বছর শেষে সূচকটি কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৬২ পয়েন্টে। সেই হিসাবে গতবছর শেষে এসে সূচকটি ৩৫৬ পয়েন্ট বা সোয়া ৭ শতাংশের বেশি কমেছিল। দৈনিক গড় লেনদেনও কমে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে আসে। তাই গত বছরজুড়েই শেয়ারবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিল চরম হতাশা। নতুন বছরের শুভ সূচনা সেই হতাশার বিপরীতে তাই কিছুটা আশার আলো ছড়াচ্ছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

নতুন বছরের প্রত্যাশা হলো, দেশে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা যেন থাকে। কারণ, স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো অর্থনীতি টেকসইভাবে এগোতে পারে না।

আমরা সবাই জানি, ২০২৫ সাল অর্থনীতির জন্য ছিল কঠিন এক সময়। নতুন বছরে সেই কঠিন সময় পেরিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন আবার গতিশীল হয়- এই প্রত্যাশা করি। নতুন বছরে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। নির্বাচিত সরকার এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে এসেছে। এই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে হলে এখনই সংস্কার কাজে হাত দিতে হবে। ছোট থেকে বড় সব পর্যায়েই সংস্কার সময়ের দাবি।

তবে সংস্কারের মূল লক্ষ্য হতে হবে জনগণের সুফল নিশ্চিত করা। সে জন্য প্রথমেই সংস্কারের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। উদ্দেশ্য পরিষ্কার হলে কোথায় কী সংস্কার প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা এবং বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া অনেক সহজ হয়। শিল্পায়নের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটির যে কোনো একটির সরবরাহ ব্যাহত হলে শিল্প উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।

তাই শিল্প খাতে এই মৌলিক সেবাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার হতে হবে। এ ছাড়া লজিস্টিকস খাতে আমাদের ব্যয় বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি। বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। পণ্য আমদানিতে আমরা  অতিরিক্ত খরচ করছি, যা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়। এই খরচ কমাতে হলে বন্দরের সেবার দক্ষতা বাড়াতে হবে, জরুরি ভিত্তিতে বন্দর অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করতে হবে। বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

নতুন বছরে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে গুরুত্ব দেওয়া হবে এটাই প্রত্যাশা। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও কার্যকর হলে তার সুফল সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাবে। মানুষ কম সময়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারবে, পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে। পণ্য আমদানির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহন ব্যয় কমলে দিন শেষে তার সুফল ভোগ করবে সাধারণ মানুষ।

নতুন বছর শুরু হয়ে গেছে। এ বছরের শেষদিকে গিয়ে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে পৌঁছাতে পারে। সেটি হলো, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর মাসে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে। এছাড়া এলডিসি উত্তরণ হলে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সহজ শর্তের ঋণ পাওয়ার সুযোগও সীমিত হতে পারে। কারণ, উত্তরণ পরবর্তী দেশগুলোকে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম অর্থনীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের একটি বড় ইতিবাচক দিকও আছে। এতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

গরিব বা স্বল্পোন্নত দেশের তকমা ঘুচে যাবে এবং দেশটি পুরোপুরি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন। পোশাক, ওষুধসহ রপ্তানিনির্ভর বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা এলডিসি উত্তরণ তিন থেকে ছয় বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন সভা সেমিনার করেছে।

গত নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের সফররত প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও ব্যবসায়ী নেতারা উত্তরণ পেছানোর দাবি জানান। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়ানোর পক্ষে পাঁচটি যুক্তি তুলে ধরেছে। এগুলো হলো ভালো বাণিজ্য দর কষাকষির সুযোগ তৈরি, তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনা, শিল্প খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু সহনশীলতা টেকসই করা। আমরা প্রত্যাশা করি, নতুন বছর আমাদের অর্থনীতির জন্য অনেক সুখকর বয়ে আনবে। বিদ্যমান হতাশা, অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন সূচকে নিম্নগামিতা কাটিয়ে পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে যাবে অর্থনীতি।

অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার, কলাম লেখক

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
Previous Post

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামাতে সৌদির দ্বারস্থ ইয়েমেন

Next Post

কঙ্গোতে আইএস-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধাদের হামলায় নিহত ১৪

Related Posts

জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদি মারা গেছেন
জাতীয়

সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

স্কয়ার ফার্মার ২০ লাখ শেয়ার কিনবেন তপন চৌধুরী
অর্থ ও বাণিজ্য

স্কয়ার ফার্মার ২০ লাখ শেয়ার কিনবেন তপন চৌধুরী

অর্থ ও বাণিজ্য

লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানির জন্য হচ্ছে  ‘আর’ ক্যাটাগরি

Next Post

কঙ্গোতে আইএস-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধাদের হামলায় নিহত ১৪

Discussion about this post

সর্বশেষ সংবাদ

জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদি মারা গেছেন

সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

স্কয়ার ফার্মার ২০ লাখ শেয়ার কিনবেন তপন চৌধুরী

স্কয়ার ফার্মার ২০ লাখ শেয়ার কিনবেন তপন চৌধুরী

লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানির জন্য হচ্ছে  ‘আর’ ক্যাটাগরি

পুঁজিবাজারে নতুন বছরে প্রথম পতন, কমলো লেনদেনও

ডিএসইতে সূচকের পতন, কমেছে লেনদেন

জকসু নির্বাচনের ভোটার উপস্থিতি ৬৬ শতাংশ




 

আর্কাইভ অনুসন্ধান

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩
৪৫৬৭৮৯১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

প্রকাশক ও সম্পাদক ✍ মীর মনিরুজ্জামান

তথ‌্য অ‌ধিদপ্ত‌রের নিবন্ধন নম্বরঃ ৪৮

একটি শেয়ার বিজ প্রাইভেট লি. প্রতিষ্ঠান

(প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রয়োজন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে)

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

বিএসইসি ভবন (১০ তলা) ॥ ১০২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ॥ ☎ 01720123162, 01768438776

  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET

No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET