Print Date & Time : 14 January 2026 Wednesday 9:15 am

নতুন রূপে যাত্রা করল এমক্যাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এমক্যাশ রিব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে নতুন রূপে যাত্রা শুরু করেছে। দেশের প্রথম ইসলামিক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা হিসেবে এমক্যাশের এই পুনর্যাত্রার উদ্বোধন করা হয়। গতকাল রোববার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রিব্র্যান্ডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। স্বাগত বক্তব্য দেন ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. ওমর ফারুক খাঁন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেনÑব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, এফসিএ, এফসিএস, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম মাসুদ রহমান এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুল জলিল। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী, সব জোনপ্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ইসলামী ব্যাংকের একটি শক্তিশালী  গ্রাহক ভিত্তি রয়েছে, যেখানে ৩ কোটিরও বেশি গ্রাহক সম্পৃক্ত। ব্যাংকের ৪০০টি শাখা, ২৭১টি উপশাখা এবং প্রায় ২ হাজার ৮০০টি এজেন্ট আউটলেটের বৃহৎ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এমক্যাশকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতেও এমক্যাশকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

গভর্নর আরও বলেন, ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে এমক্যাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য এমক্যাশকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং প্রণোদনা ও ক্যাশব্যাকের মাধ্যমে ব্যবহার উৎসাহিত করা প্রয়োজন। রিটেইল ও এসএমই খাতে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে দেশে দুর্নীতি কমবে, প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা আসবে বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর।

সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ৩ কোটি গ্রাহককে সঙ্গে নিয়ে এমক্যাশ অচিরেই বাজারে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছাবে। তিনি এমক্যাশের লেনদেনে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং রিব্র্যান্ডিং অনুষ্ঠানে গভর্নরের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সমন্বয়ে এমক্যাশ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে করেছে নিরাপদ, দ্রুত ও সহজ। এমক্যাশ থেকে এমক্যাশে সেন্ড মানিতে কোনো ফি নেই। ক্যাশআউট চার্জ প্রতি হাজারে মাত্র ১৩.৯০ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও এটিএম থেকে ক্যাশআউট চার্জ হাজারে মাত্র ৭ টাকা।

বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিট্যান্স সরাসরি এমক্যাশে গ্রহণ করা যায়, যেখানে ক্যাশআউট চার্জও হাজারে মাত্র ৭ টাকা। যে কোনো ভিসা বা মাস্টারকার্ড থেকে অ্যাড মানি করা যায় হাজারে মাত্র ৫ টাকা খরচে। এছাড়া এমক্যাশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল পরিশোধ, মেট্রোরেলের র‌্যাপিড পাস রিফিল, সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভাতা গ্রহণ এবং বেতন পরিশোধ করা যাচ্ছে।

দেশজুড়ে বিস্তৃত এমক্যাশ এজেন্ট পয়েন্ট, ইসলামী ব্যাংকের সব শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ব্যাংকের নিজস্ব এটিএম ও সিআরএম বুথ থেকে গ্রাহকরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা পাচ্ছেন।