Print Date & Time : 30 April 2026 Thursday 6:11 am

নতুন ৪ থানাসহ নিকার সভায় ১১ প্রস্তাব অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গতিশীল করতে রাজস্ব বিভাগের পুনর্গঠনসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। এর মধ্যে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার ও নরসিংদী জেলায় নতুন চারটি থানা স্থাপনের সিদ্ধান্তও রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে নিকারের ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে নিকারের প্রথম সভা। সভায় ছয়জন উপদেষ্টা ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ সরকারের ১৪ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছে বলে বাসস জানিয়েছে।

এছাড়া ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ’ ও ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ’ একীভূত করে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম অপরিবর্তিত থাকবে।

পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে উন্নীত করে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলা করার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।

নতুন থানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গাজীপুর জেলায় ‘পূর্বাচল উত্তর’, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ‘পূর্বাচল দক্ষিণ’ এবং কক্সবাজার জেলায় ‘মাতারবাড়ী’ নামে তিনটি নতুন থানা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাকে বিভক্ত করে আরও একটি নতুন থানা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলার ‘ভুল্লী’ থানার নামের বানান সংশোধন করে ‘ভূল্লী’ করার প্রস্তাবেও নিকার সম্মতি দিয়েছে।

সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো আধুনিকীকরণ ও সেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে এসব সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।