Print Date & Time : 24 May 2026 Sunday 10:45 pm

নারীসহ চার জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

প্রতিনিধি, গাজীপুর : গাজীপুরের অনলাইন নিউজ পোর্টাল গণবাণী ডট কম-এর প্রকাশক-সম্পাদক ও দুটি জাতীয় দৈনিকের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের ওপর হামলা, টাকা ছিনতাই এবং ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার মামলায় নারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।

অভিযুক্তরা হলেন- গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়ী ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামের মোতালিব মোল্লার ছেলে হান্নান মোল্লা (৫১), গাজীপুর মহানগরের পূর্ব চান্দনা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে লতিফ সরকার টুটুল (৫০), কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে নজরুল ইসলাম আজহার (৫২) এবং একই এলাকার বাসিন্দা খাদিজা আক্তার (৩১)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিএমপি সদর মেট্রো থানার এসআই মো. উজ্জ্বল হোসেন তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারাসহ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২৫ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় চার্জশিট (নং-২১২) দাখিল করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান এবং জিএমপির কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আহসান উল্লাহ।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান জানান, রোববার (২৪ মে) মামলাটির শুনানির দিন ধার্য ছিল। আদালত পুলিশ দাখিলকৃত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে জামিনে থাকা আসামিদের জামিন বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষের করা আবেদন শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

চার্জশিট ও মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ১ থেকে ৩ নম্বর আসামির সঙ্গে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এর জেরে আসামিরা তার ক্ষতি করার পরিকল্পনায় সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।

অভিযোগে বলা হয়, প্রধান আসামি হান্নান মোল্লা বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর প্রচারণা চালাতেন। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সাংবাদিক আসাদ পূর্বে সাইবার সুরক্ষা আইনে থানায় মামলা করতে গেলেও সে সময় তা রেকর্ড হয়নি। পরবর্তীতে তিনি একাধিক সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে হান্নান মোল্লা সাংবাদিক আসাদকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্যসহ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ই-মেইল পাঠান। এসব ঘটনায় সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সাংবাদিক আসাদ গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে দুই কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

চার্জশিট অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ’২৬ সকাল সোয়া ১১টার দিকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান পেশাগত কাজে গাজীপুর মহানগরের সদর থানার হাবিবুল্লাহ সরণির ‘ইকবাল কুটির’ অফিস থেকে নগর ভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে খাদিজা আক্তার কথা বলার জন্য তার পথরোধ করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিক আসাদের শার্টের কলার ধরে টানা-হেঁচড়া ও মারধর শুরু করেন।

এ সময় খাদিজার ইশারায় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা হান্নান মোল্লা, লতিফ সরকার টুটুল, নজরুল ইসলাম আজহারসহ আরও কয়েকজন এসে তাকে ঘিরে ধরে হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হান্নান মোল্লা সাংবাদিক আসাদের পকেট থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলেও চার্জশিটে বলা হয়।

এদিকে লতিফ সরকার টুটুল ও নজরুল ইসলাম আজহার পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সাংবাদিক আসাদ নিজেকে রক্ষায় পাশের ‘মন্ডল ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স’-এ আশ্রয় নিলে আসামিরা সেখানে ঢুকেও তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি, পেজ ও রিলসের মাধ্যমে ভিডিও প্রচার করায় সাংবাদিক আসাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ঘটনার পর নিরাপদ স্থানে গিয়ে সাংবাদিক আসাদ জিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোনে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তিনি সদর মেট্রো থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ খাদিজা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, খসড়া মানচিত্র প্রণয়ন এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ১৬ পাতার স্ক্রিনশট ও একটি ভিডিও সিডি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সার্বিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।