Print Date & Time : 13 May 2026 Wednesday 6:12 pm

নিজের শান্তি খুঁজতে অন্যের মঙ্গলে হাত বাড়ান

মীর মনিরুজ্জামান: ভোরের আজানের আগেই ঘুম ভাঙে রাশেদার। রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে চা বানাতে বানাতে ভাবে-আজকেও কি একই দিন? স্বামীর অসুস্থতা, সন্তানের স্কুলের বেতন বাকি, মায়ের ওষুধ শেষ। সারা দিন খাটুনি, তারপরও জীবন যেন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। কত চেষ্টা, কত পরিশ্রম-তবু কেন এই অশান্তি? কেন এই চক্র থেকে বের হওয়া যায় না?

রাশেদা একা নন। আমাদের চারপাশে অসংখ্য মানুষ এই একই প্রশ্নে জর্জর। আমরা সবাই নিজেদের নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে স্ত্রী-সন্তান বাদে অন্য কিছু ভাবার সময় নেই। অনেকে বাবা-মা ও ভাই-বোনের খবরটুকুও নিতে পারেন না। আল্লাহর নাম মুখে নিই ঠিকই, কিন্তু আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা-সেটা কোথায়? তাওয়াক্কুলের কথা বলি, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে কি সত্যিই তাওয়াক্কুল আছে?

এই লেখাটি একটি সরল সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে-আপনি যখন আল্লাহর ওপর শত ভাগ বিশ্বাস রেখে অন্যের জন্য কাজ করবেন, তখনই আপনার নিজের শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে-এটা আল্লাহর ওয়াদা।

প্রথম অধ্যায়: তাওয়াক্কুলের মর্মকথা

তাওয়াক্কুল মানে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা নয়। তাওয়াক্কুল হলো, সর্বোচ্চ চেষ্টার পর ফলাফলটা আল্লাহর হাতে সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দেওয়া। উটকে বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো-রাসুলুল্লাহ (সা.) এই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমরা কী করি? হয় উটটা বাঁধি না, নয়তো বাঁধার পরও সারারাত দুশ্চিন্তায় ঘুমাই না-উটটা পালিয়ে যাবে না তো?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন-

‘আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ -সুরা আত-তালাক, ৬৫:৩

এই একটি আয়াত যদি আমরা হৃদয়ে ধারণ করতে পারি-শুধু মুখে নয়, অন্তরে-তাহলে জীবনের অর্ধেক বোঝা নামিয়ে ফেলা সম্ভব। ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেছিলেন, তাওয়াক্কুল হচ্ছে হৃদয়ের আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা এবং একইসঙ্গে উপায়-উপকরণ অবলম্বন করা। দুটো একসঙ্গে। একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ।

গল্প ১: চায়ের দোকানদার আমিনুল

সিলেটে এক ছোট্ট চায়ের দোকান আমিনুলের। মাসে আয় হয় বড়জোর আট-দশ হাজার টাকা। কিন্তু প্রতিদিন সকালে দোকান খোলার আগে সে পাশের মসজিদে ফজর পড়ে, আর দোকানে এসে প্রথম কাপ চা বিনামূল্যে দেয় যেকোনো রিকশাচালককে। মানুষ জিজ্ঞেস করে-তোর এত কম আয়, তুই ফ্রি চা দিস কেন? আমিনুল হাসে: ‘আল্লাহ আমাকে একটা হাত দিয়েছেন দেওয়ার জন্য। যতক্ষণ এই হাত দিতে পারছে, ততক্ষণ আল্লাহ আমাকে ভুলবেন না।’ পাঁচ বছর পর আমিনুলের এখন তিনটি দোকান। সে বলে, বরকত এসেছে ওই এক কাপ চা থেকে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততার ফাঁদ

আধুনিক জীবনের সবচেয়ে বড় রোগ হলো-আমরা শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবি। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের চাকরি, নিজের বাচ্চার স্কুল, নিজের ইএমআই, নিজের প্রমোশন-সবকিছু ‘আমি, আমি, আমি।’ বাবা-মা বৃদ্ধ হচ্ছেন, তাদের একটু সময় দেওয়ার ফুরসত নেই। পাশের বাড়ির অসুস্থ প্রতিবেশীর খবর নেওয়ার সময় নেই। ভাই-বোনের সঙ্গে মাসের পর মাস কথা হয় না।

আর এই আত্মকেন্দ্রিকতাই আমাদের অশান্তির মূল কারণ। ভেবে দেখুন-যেদিন আপনি শেষবার কাউকে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করেছিলেন, সেদিন রাতে আপনার ঘুম কেমন হয়েছিল? মনে একটা প্রশান্তি ছিল না? আর যেদিন সারাদিন শুধু নিজের সমস্যা নিয়ে পেরেশান থেকেছেন, সেদিন রাতে কি চোখে ঘুম এসেছিল? মনোবিজ্ঞানও আজ এটা স্বীকার করে-পরার্থপরতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ওষুধের মতো কাজ করে। আর ইসলাম চৌদ্দশ বছর আগেই এই সত্য শিখিয়ে গেছে। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন-

‘তোমরা সৎকাজ ও তাকওয়ায় পরস্পরকে সাহায্য করো।’-সুরা আল-মায়িদাহ, ৫:২

লক্ষ করুন-আল্লাহ বলেননি ‘নিজের কাজ নিজে করো।’ বলেছেন, ‘পরস্পরকে সাহায্য করো।’ ইসলামের ভিত্তিই হলো সামষ্টিক কল্যাণ। যখন আমরা এই ভিত্তি থেকে সরে গিয়ে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের পেছনে ছুটি, তখন বরকত উঠে যায়। ইমাম গাযালী (রহ.) তাঁর ইহইয়া উলুমিদ্দীন-এ লিখেছেন-যে ব্যক্তি কেবল নিজের জন্য জীবনযাপন করে, সে আল্লাহর রহমতের বিশাল সমুদ্র থেকে মাত্র এক ফোঁটা সংগ্রহ করে। কিন্তু যে অন্যের জন্য বাঁচে, সে সেই সমুদ্রের দরজা খুলে দেয়।

গল্প ২: লন্ডনের রেস্তোরাঁ মালিক কামাল ভাই

লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে ছোট একটি বাংলাদেশি রেস্তোরা পরিচালনা করেন কামাল। ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না। ভাড়া বাড়ছে, কাস্টমার কমছে। স্ত্রী বলল, দোকান বন্ধ করে চাকরি খোঁজ। কিন্তু কামাল একটি সিদ্ধান্ত নিলেন-প্রতি শুক্রবার জুমার পর গরিব ও গৃহহীনদের জন্য ৫০ প্যাকেট খাবার বিনা মূল্যে বিতরণ করবেন। মানুষ বলল পাগল। কিন্তু তিন মাসের মধ্যে তার রেস্তোরাঁর কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে গেল। স্থানীয় কাউন্সিলর তাকে সম্মাননা দিলেন। নতুন কাস্টমার আসতে লাগল। কামাল বলেন: ‘আমি আল্লাহকে দিয়েছি, আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন-হিসাব সোজা।’

তৃতীয় অধ্যায়: অন্যের জন্য ভাবলে নিজের কী হয়?

এখানেই ইসলামের সবচেয়ে সুন্দর রহস্য লুকিয়ে আছে। আপনি যখন অন্যের কল্যাণে কাজ করেন, আল্লাহ আপনার কল্যাণের দায়িত্ব নেন। এটা কোনো কবিতা নয়, এটা নবী করিম (সা:) এর হাদিস-‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে থাকেন।’ সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২৪৪২ চিন্তা করুন-আপনার সকল সমস্যার সমাধানকারী যদি স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হন, তাহলে কি কোনো সমস্যা সমস্যা থাকে? কিন্তু এই ওয়াদা পেতে হলে শর্ত একটাই-অন্যের প্রয়োজনে আগে আপনাকে এগিয়ে আসতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।’ -সিলসিলা আস-সহিহা, আলবানি

সবচেয়ে ভালো মানুষ কে? সবচেয়ে বেশি নামাজ পড়ে যে? সবচেয়ে বেশি রোজা রাখে যে? না-সবচেয়ে বেশি মানুষের কাজে লাগে যে। এই হাদিসটি যদি আমরা জীবনের মূলমন্ত্র বানাতে পারি, তাহলে দেখুন কীভাবে জীবন পাল্টে যায়।

গল্প ৩: স্কুলশিক্ষিকা ফারহানা আপা

চট্টগ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ান ফারহানা। বেতন সামান্য। নিজের দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালাতেই হিমশিম। তবু প্রতিদিন স্কুলের পর এক ঘণ্টা গরিব বাচ্চাদের বিনামূল্যে পড়ান। স্বামী রেগে বললেন, ‘নিজের সংসার সামলাতে পার না, অন্যের বাচ্চা পড়াও কেন?’ ফারহানা বললেন, ‘আমি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি। এই বাচ্চাগুলোর দোয়া আমার সন্তানদের জন্য কাজ করবে।’ দুই বছরের মধ্যে ফারহানা সেরা শিক্ষক পুরস্কার পেলেন। তাঁর ছেলে মেধাতালিকায় প্রথম হলো। তিনি বলেন, ‘আমি দিইনি, আল্লাহ দিয়েছেন। আমি শুধু রাস্তাটা হেঁটেছি।’

চতুর্থ অধ্যায়: আল্লাহর ওপর ভরসা মানে ভয়কে জয় করা আমরা কেন অন্যের জন্য ভাবি না? কারণ ভয়। ভয়-আমার যথেষ্ট নেই। ভয়-আমি দিলে আমার কমে যাবে। ভয়-আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই ভয়ই হলো তাওয়াক্কুলের অভাব। আল্লাহ বলেছেন- ‘আকাশে রয়েছে তোমাদের রিজক এবং যা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।’ -সুরা আজ-জারিয়াত, ৫১:২২

আপনার রিজকের দায়িত্ব আল্লাহর। আপনি যত দুশ্চিন্তা করুন, রিজক এক পয়সাও বাড়বে না বা কমবে না। কিন্তু আপনি যখন আল্লাহর রাস্তায় খরচ করেন, অন্যের জন্য কাজ করেন-তখন আল্লাহ এমন দরজা থেকে রিজক দেন যা আপনি কল্পনাও করেননি। ইতিহাস সাক্ষী-সাহাবি আবু বকর সিদ্দীক (রা.) তাঁর সমস্ত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, পরিবারের জন্য কী রেখেছ? তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল। এটাই তাওয়াক্কুলের চূড়ান্ত রূপ। আমাদের সবার সেই স্তরে যেতে হবে না, কিন্তু এই চেতনার এক ফোঁটাও যদি হৃদয়ে ধারণ করতে পারি, জীবনের চিত্র পাল্টে যাবে।

শাইখ ইবন তাইমিয়্যা (রহ.) বলেছেন, যে হৃদয় আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখে, সে কখনো হতাশ হয় না। কারণ সে জানে, তার প্রতিটি কাজের পেছনে আল্লাহর একটি পরিকল্পনা আছে এবং সেই পরিকল্পনা সর্বদা তার জন্য কল্যাণকর। আর ইমাম শাফেয়ী (রহ.) সুন্দর একটি কথা বলেছিলেন, তুমি যা হারিয়েছ তা নিয়ে কেঁদো না, কারণ আল্লাহ তোমার জন্য তার চেয়ে ভালো কিছু রেখেছেন। এই বিশ্বাসটুকুই হলো তাওয়াক্কুলের সার।

গল্প ৪: প্রবাসী ড্রাইভার সেলিম দুবাইতে ট্যাক্সি চালান সেলিম। দেশে বৃদ্ধ মা একা। প্রতি মাসে টাকা পাঠান, কিন্তু ফোন করার সময় পান না। একদিন এক যাত্রী-একজন বৃদ্ধ আরব ভদ্রলোক-গাড়িতে উঠে কাঁদছিলেন।

সেলিম জিজ্ঞেস করলেন, ‘আংকেল, কী হয়েছে?’ বৃদ্ধ বললেন: ‘আমার ছেলে আমাকে ভুলে গেছে।’ সেলিমের চোখে পানি এলো। সে গাড়ি পার্ক করে বৃদ্ধকে নিয়ে চা খেল। এক ঘণ্টা সময় দিল। তারপর বাসায় গিয়ে প্রথমে মাকে ফোন করল-এক ঘণ্টা কথা বলল। সেই রাতে সেলিম সিদ্ধান্ত নিল-প্রতিদিন মাকে ফোন করবে এবং প্রতি সপ্তাহে একজন একাকী প্রবাসীকে খাওয়াবে। ছয় মাস পর সেলিমের একটি ছোট ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির স্বপ্ন বাস্তব হলো-এক যাত্রীর সুপারিশে। সেই যাত্রী? সেই বৃদ্ধ আরব

ভদ্রলোকের ছেলে। পঞ্চম অধ্যায়: ছোট ছোট কাজে বড় বড় বরকত অনেকে মনে করেন, অন্যের জন্য কাজ মানে বড় কিছু করতে হবে-হাসপাতাল বানাতে হবে, লাখ টাকা দান করতে হবে। না। ইসলামে সবচেয়ে বড় সদকা হলো-হাসিমুখে কথা বলা, পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো, কারও কথা মন দিয়ে শোনা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের সামনে তোমার হাসিমুখ সদকা।’ জামে আত-তিরমিজি আজকে থেকে শুরু করুন। সকালে উঠে একজনকে ফোন করুন-হতে পারে বৃদ্ধ বাবা-মা, হতে পারে দূরের কোনো বন্ধু, হতে পারে একাকী কোনো প্রতিবেশী। তাকে জিজ্ঞেস করুন-‘আপনি কেমন আছেন? আপনার কোনো কাজে কি লাগতে পারি?’ এই একটি ফোন কল আপনার দিনটাকে বরকতময় করে দিতে পারে।

অফিসে সহকর্মীর কাজে সাহায্য করুন-কোনো প্রতিদান চাইবেন না। রাস্তায় কাউকে পথ দেখিয়ে দিন। দোকানদারকে বলুন, ‘আল্লাহ আপনার ব্যবসায় বরকত দিন।’ রিকশাচালককে ভাড়ার সঙ্গে একটু বেশি দিন। এগুলো ক্ষুদ্র কাজ মনে হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কাছে এগুলোর ওজন পাহাড়সমান।

গল্প ৫: এডিনবরার ছাত্র জাবেদ

স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় পড়াশোনা করেন জাবেদ। পার্ট-টাইম কাজ করে কোনোমতে চলেন। একদিন ইউনিভার্সিটির ক্যান্টিনে দেখলেন এক ব্রিটিশ বৃদ্ধা একা বসে আছেন, কারও সঙ্গে কথা বলার মানুষ নেই। জাবেদ গিয়ে বসল, চা কিনে দিল, আধঘণ্টা গল্প করল। সেই বৃদ্ধা প্রতি সপ্তাহে আসতে লাগলেন। জাবেদ প্রতি সপ্তাহে তার সঙ্গে সময় কাটাত। ছয় মাস পর জানা গেল, সেই বৃদ্ধা একটি চ্যারিটির ট্রাস্টি। তিনি জাবেদের জন্য একটি ফুল স্কলারশিপের ব্যবস্থা করলেন। জাবেদ কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, ‘আমি কখনো ভাবিনি এই চায়ের কাপ আমার জীবন বদলে দেবে। আমি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছিলাম।’ ষষ্ঠ অধ্যায়: পরিবর্তনের পথ-আজ থেকেই শুরু আপনি হয়তো ভাবছেন-আমি তো নিজেই সমস্যায় আছি, অন্যের জন্য কী করব? এটাই শয়তানের সবচেয়ে বড় ফাঁদ। শয়তান চায় আপনি শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবুন, যাতে আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ থাকে। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন-

‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে সহজতা আছে।’-সুরা ইনশিরাহ, ৯৪:৬

কষ্টের সাথেই সহজতা, পরে নয়। আপনি যখন কষ্টের মধ্যেও অন্যের কল্যাণে হাত বাড়ান, সেটাই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান আমল। কারণ সচ্ছলতার সময় দান করা সহজ, কিন্তু অভাবের সময় দান করা-সেটাই প্রকৃত তাওয়াক্কুল।

ড. তারিক রামাদান তাঁর লেখায় বলেছেন-আধুনিক মুসলমানের সবচেয়ে বড় সংকট হলো আধ্যাত্মিক একাকীত্ব। আমরা সামাজিক মিডিয়ায় হাজার মানুষের সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু প্রতিবেশীর নাম জানি না।