নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি করবছরে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এনবিআর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা ও মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া অন্যান্য সব ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
গতকাল সোমবার এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন এবং ৩১ লাখ ৮৮ হাজার করদাতা ২০২৫-২৬ করবছরের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী করদাতা স্বেচ্ছায় অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করছেন।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের জন্য পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ereturn-etaxnbr.gov.bd ঠিকানায় পাঠালে সংশ্লিষ্ট ই-মেইলে ওটিপি ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে তারা সহজেই ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ওটিপির মাধ্যমে ই-রিটার্ন সিস্টেমে সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০০ প্রবাসী বাংলাদেশি বিদেশে অবস্থান করেই অনলাইনে আয়কর পরিশোধসহ ২০২৫-২৬ করবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ প্রবাসী করদাতা ই-রিটার্ন-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতাসহ সব করদাতার ই-রিটার্ন দাখিলে এই ব্যাপক আগ্রহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমকে আরও বেগবান করছে। ব্যক্তিশ্রেণির সব করদাতাকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে দাখিল করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
গত বছরের ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ করবছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এদিকে গত ৭ জানুয়ারি ঢাকার রাজস্ব ভবনে অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড-ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। এর ফলে ভ্যাট রিফান্ড পেতে ব্যবসায়ীদের আর সরকারি দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে না। এখন থেকে অনলাইনে সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবেই ভ্যাট রিফান্ডের টাকা পাঠানো হবে। এ জন্য ই-ভ্যাট রিফান্ড-ব্যবস্থা চালু করেছে এনবিআর। নতুন এই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে রিফান্ড আবেদন করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
আবদুর রহমান খান বলেন, এখন থেকে রিফান্ড আবেদন জমা দিতে বা অর্থ গ্রহণের জন্য করদাতাদের ভ্যাট কার্যালয়ে যেতে হবে না। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে। পাশাপাশি কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
এনবিআর জানায়, করদাতারা অনলাইনে মাসিক মূসক রিটার্ন দাখিলের সময়ই প্রাপ্য ভ্যাট রিফান্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেট অনুমোদন দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফান্ডের অর্থ ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরিত হবে। এতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা আদায় ও রিফান্ড দুটি কাজই সম্পন্ন করবে। আইবাসের সঙ্গে সংযুক্ত এই ব্যবস্থায় টাকা আদায় ও হিসাবের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে ভারসাম্য নিশ্চিত হবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যাদের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন রয়েছে, তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। তবে রিটার্ন দাখিল করলেই যে আয়কর দিতে হবে তা নয়। কারও আয় যদি করযোগ্য না হয়, তাহলে কর দেওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু রিটার্ন জমা দিলেই হবে।
নির্দিষ্ট সময় আয়কর জমা না দিলে জরিমানাসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হতে পারে। জমি নিবন্ধন থেকে শুরু করে ইউটিলিটি সংযোগ, ক্রেডিট কার্ডসহ ৪৪টি সেবা পেতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। যাদের টিআইএন নম্বর আছে, তাদের অবশ্যই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে বার্ষিক আয় করযোগ্য না হলে কর দিতে হবে না।
আপনার করযোগ্য আয় নেই, কিন্তু টিন সার্টিফিকেট আছে, তাহলে আপনি জিরো রিটার্ন সাবমিট করুন। প্রতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এই পাঁচ মাস জরিমানা ছাড়া বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। এজন্য আপনাকে কারও কাছে যেতে হবে না।
প্রিন্ট করুন






Discussion about this post